পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত

ইরান জানিয়েছে, ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক পারমাণবিক আলোচনা ছিল গঠনমূলক এবং এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ওমানের মধ্যস্থতায় মাসকাটে অনুষ্ঠিত আলোচনা ছিল 'ভালো একটি শুরু'। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরান কেবল তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা করবে, অন্য কোনো বিষয় নয়। তিনি আরও বলেন, অগ্রগতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি ও বলপ্রয়োগের নীতি থেকে সরে আসতে হবে।

আলোচনায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, তবে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও বিশুদ্ধতা বা বিকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায়ও আগ্রহ দেখিয়েছে। একই সঙ্গে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। 

ওয়াশিংটন চায় আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড ও মানবাধিকার পরিস্থিতিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে। তবে তেহরান এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি ‘রেড লাইন’।

আলোচনা চললেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাপ বাড়িয়ে ইরানি পণ্য কেনা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেন। একই সঙ্গে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী বলেই মনে হচ্ছে এবং শিগগিরই আরও বৈঠক হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে খারাপ কিছু ঘটতে পারে। 

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলো আশঙ্কা করছে, আলোচনা ভেঙে পড়লে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে। আলোচনার আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি উন্নত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের খবর প্রচার করা হয়।