ট্রাম্পের গাজা শান্তি উদ্যোগে পাকিস্তানের সাড়া

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত 'বোর্ড অব পিস' এর প্রথম বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়েছে পাকিস্তান। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে ইসলামাবাদ অংশ নিতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর মতে, বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে বোর্ডটির কাঠামো, ম্যান্ডেট ও সচিবালয়সহ প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা চূড়ান্ত করা। গাজায় সম্ভাব্য কোনো আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে সেনা পাঠানো নিয়ে এ পর্যায়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানানো হয়েছে।

গত ২২ জানুয়ারি দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বোর্ড অব পিসের সনদে স্বাক্ষর করা ২২ টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের নাম রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি এই উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়। গত বছর প্রস্তাবিত এই বোর্ডটি গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। বোর্ডটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং এর সদরদপ্তর থাকবে ওয়াশিংটনের ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অব পিসে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব পিসে বৈঠকটি আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় গাজার পুনর্গঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পুরো উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। বৈঠকের এক দিন আগে, ১৮ ফেব্রুয়ারি, হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের সূচিও রয়েছে।

বোর্ড অব পিসের লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসন হলেও এ উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, এটি জাতিসংঘ ও বিদ্যমান বহুপাক্ষিক কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মিত্র দেশ এতে যোগ দিলেও কাঠামো ও ম্যান্ডেট নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক পশ্চিমা মিত্র এখনো দূরে রয়েছে।

পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই বৈঠকে অংশগ্রহণকে সতর্ক ও হিসেবি কূটনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি অধিকার বিষয়ে দীর্ঘদিনের সমর্থক দেশ হিসেবে ইসলামাবাদ গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় যুক্ত থাকতে চায়, তবে একই সঙ্গে এমন কোনো উদ্যোগ এড়িয়ে চলতে চায় যা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বাইরের নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দিতে পারে। কর্মকর্তারা বলছেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া মানেই বোর্ডের সামগ্রিক এজেন্ডা—বিশেষ করে শাসনব্যবস্থা বা ভবিষ্যৎ সামরিক ভূমিকার—প্রতি সমর্থন নয়।

উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে গৃহীত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনে বোর্ড অব পিস ও সহযোগী রাষ্ট্রগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং চলমান সহিংসতায় মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।