শীত ও কুয়াশামুক্ত সহনীয় গরম থাকবে ভোটের দিন

সবচেয়ে উপযোগী আবহাওয়া নির্বাচনের দিন। আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হলেও এর আগেই সূর্যের আলো উঠে যাবে। দিনভর সহনীয় সূর্যের আলোতে কুয়াশামুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। এমনই আবহাওয়ার আভাস দিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচনের দিন আবহাওয়া কেমন

থাকবে? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হকের কাছে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবার সবচেয়ে ভালো পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। শীতের তীব্রতা কিংবা কুয়াশার কারণে ভোটারদের দুর্ভোগ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আবার সূর্যের আলোও বেশি থাকবে না। শীতকাল শেষের পথে হওয়ায় বৃষ্টিরও কোনো আভাস নেই। এক কথায় দারুণ একটি আবহাওয়ায় এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

ভালো আবহাওয়া বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যদি ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যদি ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, তাহলে আমরা এ আবহাওয়াকে উত্তম বা ভালো আবহাওয়া বলে বিবেচনা করি। আগামী বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে থাকতে পারে।

এদিকে গতকাল কেমন আবহাওয়া ছিল? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে কথা হয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোকাস্টিং কর্মকর্তা কাজী জেবুন্নেসার সঙ্গে। তিনি বলেন, গতকাল রবিবার ঢাকা বিভাগে গড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩ ও সর্বোচ্চ ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহীতে গড় সর্বনিম্ন ছিল ১২ ও সর্বোচ্চ ২৬ দশমিক ৫, রংপুরে ১১ দশমিক ৫ ছিল সর্বনিম্ন গড় এবং সর্বোচ্চ গড় ছিল ২৬ ডিগ্রি, ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন গড় ছিল ১৩.৫ এবং সর্বোচ্চ গড় ছিল ২৬.৫, সিলেটে সর্বনিম্ন গড় ১১.৫ ও সর্বোচ্চ গড় ২৭.৫ এবং চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন গড় ১৫ ও সর্বোচ্চ গড় ২৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।

নির্বাচনের দিনের আবহাওয়া কেমন থাকতে পারে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গতকাল যেমন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবারও এমনই তাপমাত্রা থাকতে পারে। উপরন্তু তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।

শীত ও কুয়াশা কেমন থাকবে : নদী অববাহিকা ছাড়া অন্যান্য এলাকায় কুয়াশা তেমন থাকবে না জানিয়ে আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, শুধু নদী অববাহিকা এলাকায় ভোরের দিকে কিছুটা কুয়াশা থাকতে পারে। তবে সকাল ৭টার আগেই সূর্যের আলো দেখা যাবে বলে কুয়াশা কেটে যাবে। তাই কুয়াশার কারণে শীতের অনুভব বাড়বে না।

কিন্তু বাতাসের গতিবেগ কেমন থাকবে? বাতাসের বেগ বেশি থাকলে শীত অনুভবতা বাড়বে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা বলেন, গত কয়েক দিনের উপাত্তে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাতাসের গতিবেগ কমেছে। গত শুক্র ও শনিবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার গতিতে বাতাস প্রবাহিত হলেও গতকাল তা ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার গতিতে নেমে এসেছে। আর বাতাসের গতিবেগ কমে আসায় শীতের অনুভবতাও কমে আসবে।

পূর্ববর্তী যত সংসদ নির্বাচন : আমাদের দেশের আবহাওয়ায় ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা বেশি থাকে। দেশে এ পর্যন্ত হওয়া ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শীতের ভরা মৌসুমে চারটি নির্বাচন হয়েছিল। এগুলো হলো ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন (৭ জানুয়ারি), ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (৩০ ডিসেম্বর), ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (৫ জানুয়ারি) ও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২৯ ডিসেম্বর)।

এ ছাড়া অন্যান্য নির্বাচনের মধ্যে শীতের শেষের দিকে হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন (১২ ফেব্রুয়ারি), ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচন (২৭ ফেব্রুয়ারি), ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন (১৮ ফেব্রুয়ারি) এবং ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচন (৭ মার্চ) তারিখে হয়েছিল। এ ছাড়া শীতের আগমুহূর্তে হয়েছিল ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১ অক্টোবর) তারিখে। বর্ষায় হয়েছিল ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১২ জুন) ও ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১০ জুলাই)।

দেশে বেশিরভাগ নির্বাচন শীত সময়ে হয়ে থাকে। তবে এবার শীতের শেষের দিকে হওয়ায় ভোটারদের দুর্ভোগ কমবে।