জনসভায় তারেক রহমান

বিএনপিই পারে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূলের অঙ্গীকার করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবে। বিএনপির পক্ষেই সেটি করা সম্ভব। বিএনপির সে অভিজ্ঞতা আছে।’ গতকাল সোমবার রাজধানীর বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীতে নির্বাচনী প্রচারের দ্বিতীয় দিনে গতকাল ৮টি জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। শুরুতে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ খেলার মাঠে জনসভা করেন তিনি। এরপর ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলমের পক্ষে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে, ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী এলাকায় পীর জঙ্গি মাজার রোডে, ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশিদ হাবিবের পক্ষে বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে, ঢাকা-৫ আসনে নবীউল্লাহ নবীর পক্ষে যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে, ঢাকা-৪ আসনে তানভীর আহমেদ রবিনের পক্ষে জুরাইন-দয়াগঞ্জ রোডে, ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেনের পক্ষে ধূপখোলা মাঠে এবং সর্বশেষ ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান হামিদের পক্ষে লালবাগ বালুর মাঠে জনসভা করেন তিনি।

বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠের জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০০১ সালে বিএনপি যখন সরকার গঠন করে তখন বিএনপি ও বাংলাদেশের গায়ে ছিল দুর্নীতির তকমা। খালেদা জিয়ার সরকার ২০০৬ সালে যখন ক্ষমতা ছেড়ে দেয় তখন বিএনপির সরকার দেশকে দুর্নীতির তকমা থেকে বের করতে সক্ষম হয়।’

তিনি বলেন, ‘যে দুর্নীতি আমরা গত ১৬ বছর ধরে দেখেছি সেই দুর্নীতি থেকে দেশকে বের করতে পারে একমাত্র বিএনপি। বিএনপির সে অভিজ্ঞতা আছে। খালেদা জিয়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন ছিল। বিএনপি সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে শতভাগ স্বাধীন করে দিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এলাকার রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট ও হাসপাতাল নির্মাণ ও সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা দূর করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি : ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের পক্ষে পীরজঙ্গি মাজার সড়কে জনসভায় তারেক রহমান পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনসহ সারা দেশে তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের সমস্যা রয়েছে। বিএনপি এ সমস্যার সমাধানের পরিকল্পনা করেছে। আগামী পাঁচ বছরে ইনশাআল্লাহ এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে, মিল-কারখানা স্থাপন করে বেকার সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রতিটি জেলা ও আসনে ভোকেশনাল, টেকনোলজিক্যাল ও আইটি ইনস্টিটিউট করা হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে দক্ষ তরুণদের বিদেশ যাওয়ার জন্য ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করা হবে, জমি বিক্রি করে যেতে হবে না।’

বিএনপি নির্বাচিত হলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মগুরুদের সম্মানী ভাতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার কথা জানান তিনি। ঢাকা-৮ আসনে খেলার মাঠ নির্মাণ, কবরস্থানের জন্য জায়গা বরাদ্দ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। মির্জা আব্বাসের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তাকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।

একটি দল সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান : ধানম-ির কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল আইডি (এনআইডি) ও বিকাশ নম্বর নিয়ে মা ও বোনদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এ কাজ করছে বিশেষ একটি দলের লোকজন। একটি মহল নকল ব্যালটের সিল বানাতে গিয়ে ধরা পড়েছে। এই নির্বাচন শুধু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নয়, দেশ গঠনের নির্বাচন।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপিই একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের নারীদের স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা আছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার পাশাপাশি কৃষকদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপি ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে না।’

সভায় তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের স্কুলশিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার প্রদানের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। শহর ও গ্রাম সব জায়গায় প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী ভাই-বোনের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় দেশ চলে। তাদের হয়রানি কমাতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশে ফিরে সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে চালু করা হবে প্রবাসী কার্ড। ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুর অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করেন। তাদের সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ৭১ ও ২৪-এর শহীদদের কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। যে দলের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে এমন দলকে নির্বাচিত করতে হবে।’

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় নিজের আসন ঢাকা-১৭-এর বনানী কামাল আতাতুর্ক মাঠে জনসভার মাধ্যমে ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।

সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার অঙ্গীকার : বনানীর কামাল আতাতুর্ক মাঠের জনসভায় বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে জনগণের সমর্থন চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিএনপিকে আপনারা সুযোগ দিন। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে দেশ গঠন করব। এই দেশ আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে।’

রাজধানীতে জনসভা শেষ করে রাত ১১টায় শেরেবাংলা নগরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শেষ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে গত রবিবার ঢাকা মহানগরে প্রচার শুরু করেন তারেক রহমান; সেদিন ঢাকার সাতটি নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেন।