জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান

ভোট চুরির চেষ্টা হলে জনগণ রুখে দেবে

ভোট চুরি বা অবৈধ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা হলে জনগণ তা রুখে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এখন থেকেই পাহারাদারি শুরু করতে হবে। বিজয়ের মালা গলায় পরিয়ে ঘরে ফেরা পর্যন্ত এ পাহারা দিতে হবে। ঘরে ফিরে আগে দুই রাকাত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করতে হবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা-১৩ আসনে ১১-দলীয় জোট মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। জনসভায় মামুনুল হকের হাতে রিকশা প্রতীক তুলে দিয়ে তাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। একই সঙ্গে মামুনুল হক বিজয়ী হলে এলাকাবাসী একজন মর্যাদাবান মন্ত্রী পাবেন বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

জামায়াত আমির হুঁশিয়ার দিয়ে বলেন, ভোট ছিনতাই ও দুঃশাসন ফিরিয়ে আনার কোনো দুঃস্বপ্নে কেউ ভুগবেন না। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এখানে কিছু অসৎ ব্যক্তি মাদক, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, দখলবাজি চালিয়ে আসছে। যারা এই অস্ত্রবাজি, ধাপ্পাবাজি করছে, তাদের হাত থেকে এলাকাবাসীকে বাঁচিয়ে তুলব ইনশাআল্লাহ। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের পক্ষে নির্বাচনে নামিনি। আমরা ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে নেমেছি। একটি দল ক্ষমতায় আসতে পাগলপারা হয়ে উঠেছে। জনগণ তাদের দেখেছে আর দেখতে চায় না। আমরা কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের আর দেখতে চাই না। জনগণ জুলাইয়ের পক্ষের লোকদের বিজয় দেখতে চায়।

জামায়াত আমির সতর্ক করে আরও বলেন, সরকারের কিছু অসৎ লোক-আমলা-সচিব দলবাজি করছেন। বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন। জাতি আপনাদের বারবার ক্ষমা করবে না। আবার কেউ ফ্যাসিবাদের মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হলে জুলাইয়ের মতো তা রুখে দেবে। ইনশাআল্লাহ দুর্নীতিমুক্ত, ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে।

ঢাকা-১৫ আসনে গণমিছিল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনী গণমিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন দলটির আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদীয় প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তালতলা এলাকা থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এ সময় পুরো আগারগাঁও থেকে তালতলা হয়ে মিরপুর এলাকা পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে লোকে-লোকারণ্য হয়ে ওঠে। বিভিন্ন অলিগলিসহ মূল সড়ক ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। গণমিছিলে অংশগ্রহণকারীরা দলীয় ও জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করেন। এ সময় তারা সুশাসন, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে বিভিন্ন সেøাগান দেন।

মিছিল শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ নির্বাচন জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, ঢাকা-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে গণমিছিল বের করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। দোলাইরপাড় কমিনিউটি সেন্টারের সামনে থেকে শুরু হয়ে মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল-পূর্ব সমাবেশে ঢাকা-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, একটি দল সারা দেশে নারীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি লাগিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত তুলছে! কতটা অমানবিক আর অসভ্য হলে নারীদের ওপর হামলা চালাতে পারে। তৃণমূলে দলীয় নেতাকর্মীদের এসব অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে চুপ থাকার অর্থ হচ্ছে বিএনপি নারীর প্রতি সহিংসতাকে সমর্থন করছে, প্রশ্রয় এবং উসকানি দিচ্ছে।

ঢাকা-৭-এ নারীদের মিছিল : ঢাকা-৭ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে গণমিছিলটি কামরাঙ্গীরচর সরকারি হাসপাতালের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে এক সমাবেশে ১১-দলীয় জোট সমর্থিত হাজি হাফেজ এনায়েত উল্লাহ বলেন, কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্র দখল হতে দেওয়া যাবে না। ব্যালট কারচুপি করে ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশন করতে দেওয়া যাবে না। প্রশাসনের কিছু লোক একটি দলের সঙ্গে আঁতাত করে ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশন করার চেষ্টার ছক আঁকছে। কারণ ওই দলকে ক্ষমতায় বসাতে পারলে তাদের অতীত অপকর্মের দায়মুক্তি পাবে। তারা নিজেদের অপকর্মের দায়মুক্তির জন্য জনগণের ভোট কারচুপি করে একটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করবে। প্রশাসনের ভেতরে এবং বাইরে নির্বাচন নিয়ে যত ষড়যন্ত্র হোক না কেন, সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে ঢাকা-৬ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে গণমিছিল রাজধানীর ইত্তেফাক মোড় থেকে শুরু হয়ে টিকাটুলী ফুটওভার ব্রিজ-সেন্টাল উইমেনস-শাহজাহান ভাইয়ের বাসা-মিতালী বিদ্যাপীঠ-রাজধানী মার্কেট- পীরসাহেব গলি (মশুরী খোলা)-বাবু ভাইয়ের বাসার গলি-মুরগিটোলা-দয়াগঞ্জ-ধূপখোলা-সাধনা ঔষধালয়-সতীশ সরকার রোড-লোহারপুল-সূত্রাপুর বাজার-বাংলাবাজার-জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-রায়সাহেব বাজার-নবাবপুর রোড-কাপ্তান বাজার প্রদক্ষিণ করে বাংলাদেশ হোমিও কলেজের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিল শেষে ১১-দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, ৪০ দিন নগর ভবন তালা দিয়ে রাখার জবাব ঢাকা-৬-এর জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে দেবে। যেই সাদেক হোসেন খোকা শেখ হাসিনাকে পরাজিত করেছে, সেই সাদেক হোসেন খোকার পুত্রের চাঁদাবাজির জবাব জনগণই দেবে। ঢাকা-৬-এর জনগণ মাদক পছন্দ করে না, চাঁদাবাজি পছন্দ করে না, সন্ত্রাস পছন্দ করে না। এখানকার জনগণ মাদক-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে ১২ ফেব্রুয়ারি এক নতুন ইতিহাস রচনা করবেন।

এ ছাড়া ঢাকা-১০ আসনে ধানমন্ডি, ঢাকা-১২ আসনে কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১৮ আসনে উত্তরা এবং ঢাকা-১১ আসনে বাড্ডায় জামায়াত, এনসিপি এবং খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল গণমিছিল করেছে বলে জানা গেছে।