নির্বাচনপূর্ব পরিবেশে নারী, আদিবাসী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী এবং লিঙ্গবৈচিত্র্যের মানুষরা গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। অর্থ, পেশিশক্তি, ধর্ম, পুরুষতান্ত্রিকতা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রভাবের কারণে সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।
গতকাল সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং সেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচনে কয়েকটি বিষয় অস্বাভাবিকভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে, যার মধ্যে অর্থ, পেশিশক্তি, ধর্ম, পুরুষতান্ত্রিকতা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা অন্যতম। এই উপাদানগুলোর প্রভাবে সমাজের প্রান্তিক ও ক্ষমতাহীন জনগোষ্ঠী। বিশেষ করে নারী, ধর্মীয়, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক সংখ্যালঘু, আদিবাসী, লিঙ্গবৈচিত্র্যের মানুষ এবং শারীরিক, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী নাগরিকরা নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিনে নানা ধরনের হুমকি ও ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, এই জনগোষ্ঠীগুলো সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার স্বাধীনভাবে চর্চা করতে পারবে কি না, এ নিয়ে আমাদের উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
তিনি জানান, নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব দাবির ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট আইন ও প্রক্রিয়াবিষয়ক বিশেষ সেলের প্রধান ও তার টিমের সঙ্গে বৈঠক করে উদ্বেগগুলো তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে শুধু সামগ্রিক চিত্র নয়, বরং মাঠপর্যায়ের প্রতিকূলতা বিবেচনায় নিয়ে কীভাবে তাৎক্ষণিক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে রিয়েল টাইমে সমস্যা জানানো ও তথ্য আদান-প্রদানের জন্য কার্যকর যোগাযোগ চ্যানেল তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, আলোচনার শেষপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সেলের প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সানাউল্লাহ একমত পোষণ করেছেন যে, টিআইবি তথ্য সরবরাহ করলে তার ভিত্তিতে কমিশন তাৎক্ষণিক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই আশ্বাসকে আমরা সন্তুষ্টির সঙ্গে গ্রহণ করেছি।