আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে গুনাহ পরিহার

মানবজীবনের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। এই লক্ষ্য অর্জনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে গুনাহ। গুনাহ মানুষের হৃদয়কে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও ইমান দুর্বল করে। তাই সফল মানুষ হতে হলে গুনাহ পরিহারের গুরুত্ব অপরিসীম। আর ইসলামে গুনাহ হচ্ছে আল্লাহর আদেশ অমান্য করা ও প্রদত্ত সীমারেখা লঙ্ঘন করা। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা বাকারা ১৯০)

একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো, মন্দ পথ ত্যাগ করে সৎ ও আল্লাহভীরু পথে জীবনযাপন করা। কোরআনে আল্লাহতায়ালা পাপ পরিহারের গুরুত্ব প্রসঙ্গে বলেন, ‘তোমরা যদি নিষিদ্ধ বড় গুনাহগুলো থেকে বিরত থাকো, আমি তোমাদের ছোট গুনাহসমূহ মাফ করে দেব।’ (নিসা ৩১)

তাই ছোট-বড় সকল গুনাহ থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ গুনাহ হৃদয়কে কালো করে দেয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তাদের কৃতকর্ম তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।’ (সুরা মুতাফ্ফিফিন ১৪) অর্থাৎ অবিরাম গুনাহ মানুষের অন্তরকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেলে। তখন মানুষ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে পারে না।

আবার পাপ থেকে নিজেকে বিরত রাখাকে সফলতার চাবিকাঠি হিসেবে কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ রাখে সে সফল। আর যে তা কলুষিত করে, সে ব্যর্থ।’ (সুরা শামস ৯-১০)   

অনুরূপ হাদিসেও পাপ পরিহারের গুরুত্ব সম্পর্কে নবীজি (সা.)-এর বাণী লক্ষণীয়। যেমন হজরত জারির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবীজি (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কোনো ব্যক্তি এমন কোনো জাতির মধ্যে বাস করছে, যাদের মাঝে পাপাচার হচ্ছে, তারা এ পাপাচার প্রতিরোধে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও প্রতিরোধ করছে না, তাহলে মৃত্যুর পূর্বেই আল্লাহ তাদের চরম শাস্তি দিবেন।’ (আবু দাউদ) 

অনেকে কথায় বা কাজের ক্ষেত্রে মানুষকে গালি দেয়। যা সম্পূর্ণ পাপ কাজ। নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি কাজ এবং কোনো মুসলিমকে হত্যা করা কুফরি।’ (সুহিহ বুখারি)

পাশাপাশি সমাজে সংঘটিত পাপ কাজের বিরুদ্ধে অবস্থান প্রসঙ্গে নবীজি (সা.) বলেন, ‘কেউ কোনো অন্যায় হতে দেখলে, সে তা হাতের সাহায্যে দমন করতে সক্ষম হলে তা দ্বারা যেন প্রতিরোধ করে। যদি হাতের দ্বারা প্রতিরোধ করতে সক্ষম না হয়, তবে কথার দ্বারা। আর যদি কথার দ্বারা প্রতিরোধ করতে সক্ষম না হয়, তবে অন্তর দ্বারা। তবে এটা দুর্বল ইমানের স্তর।’ (আবু দাউদ)

কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে।’ (সুরা রুম ৪১) তাই পাপ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। পাপ থেকে বেঁচে থাকতে তাকওয়া অর্জন করা আবশ্যক। আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য পথ বের করে দেন।’ (সুরা তালাক ২) তাই সৎ সঙ্গ গ্রহণ করা, পাপের কারণ থেকে দূরে থাকা, তওবা করা, নিয়মিত নামাজ ও জিকির করা কাম্য।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক