বাংলাদেশের জন্য প্রতিরক্ষা প্রস্তাবের চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের

আজ দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশে পরবর্তী শাসনভার কার কাছে যাবে এ নির্বাচন দিয়ে সেটি নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন নিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। গত মঙ্গলবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশি জনগণের দ্বারা যে সরকারই নির্বাচিত হবে, ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে কাজ করবে। ওই সাক্ষাৎকারের একটি বড় অংশ জুড়ে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বাড়তে থাকায় উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারকে চীনা সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ডিফেন্স সিস্টেম) গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটি।

অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। ভারত-ঘনিষ্ঠ সাবেক এ সরকারপ্রধান শেষ পর্যন্ত নয়াদিল্লিতেই আশ্রয় নিয়েছেন। এতে ভারতের প্রভাব কমতে থাকায় বাংলাদেশে চীনের প্রভাব আরও বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ভারত সীমান্তের কাছাকাছি একটি ড্রোন কারখানা স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে চীন। এ বিষয়টি বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত বহুমুখী যুদ্ধবিমান ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ কেনার বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গেও আলোচনা চলছে বাংলাদেশের।

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। চীনের সঙ্গে নির্দিষ্ট ধরনের সম্পৃক্ততার ঝুঁকি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার প্রয়োজন মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব করছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও মিত্র দেশগুলোর সরঞ্জাম রয়েছে, যা চীনা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি ভালো সম্পর্ক দেখতে চায়। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দুই দেশের ভিসা সেবা ও ক্রিকেট সম্পর্কেও। ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে তারা চায়, নতুন সরকার শুরুতেই স্পষ্টভাবে জানাক যে দেশটি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক কূটনীতি আমাদের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে অগ্রগতি হয়েছে, তার ভিত্তিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চাই। তিনি আন্তর্জাতিক দাতাদের আরও বড় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র একা এই উদ্যোগের মূল বোঝা বহন করতে পারে না। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তা বাড়াতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে তাদের খাদ্য রেশন কমানো হয়েছে এবং কিছু শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ করতে হয়েছে।