ইরানে হামলার প্রস্তুতি পেন্টাগনের

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারও কড়া অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে তেহরান রাজি না হলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। তবে গত মাসে এই হুমকি দেওয়ার সময় মধ্যপ্রাচ্যে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না পেন্টাগনের। তবে বর্তমানে প্রেক্ষাপট ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি স্থায়ী ঘাঁটিতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা ও বিমানবাহী মোতায়েন রয়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে আরও একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোনো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক এবং বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি জেরাল্ড আর. ফোর্ড সেখানে পৌঁছলে; ট্রাম্প যে ধরনের বড় অভিযানের কথা বলেছিলেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত যুদ্ধবিমানও পাবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হামলার নির্দেশ দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী টানা সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সামরিক বাহিনী। গত শুক্রবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এবার যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে শুধু পারমাণবিক স্থাপনাই নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা সংস্থার বিভিন্ন স্থাপনাতেও হামলা চালানো হতে পারে। তবে বিস্তারিত কিছু জানাতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন অভিযান শুরু হলে তা দুই দেশের মধ্যে আগের যেকোনো সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর রূপ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। এর সঙ্গে হাজারো অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ নানা সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করা হচ্ছে। এক কর্মকর্তা বলেছেনÑ যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি ধারণা করছে যে ইরান পাল্টা জবাব দেবে, যার ফলে একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিশোধমূলক হামলা বা আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে, ইরানে সরকার পরিবর্তন হওয়াকেই ‘সবচেয়ে ভালো উপায়’ বলে মনে করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, মনে হয়, সেটাই সবচেয়ে ভালো হবে। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় শান্তিপূর্ণ সমাধান আনতে কখনো কখনো ভয় দেখানোই একমাত্র কার্যকর উপায় হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ইরানের ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এখনো ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।