ঢাকা-১৬ আসনে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মো. আমিনুল হক। তার অভিযোগ, প্রশাসন ও প্রতিপক্ষ প্রার্থীর যোগসাজশে নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত করে এই আসনে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার রাজধানীর পল্লবীতে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানিয়েছেন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা এই গোলরক্ষক।
আমিনুলের দাবি, ঢাকার কয়েকটি আসনে একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দিতে পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করা হয়েছে এবং তার অংশ হিসেবেই ঢাকা-১৬ আসনে ফল বদলে দেওয়া হয়েছে।
এই আসনে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন। ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রার্থী মো. আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৩ হাজার ৩৬১টি।
সংবাদ সম্মেলনে পল্লবী বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রের একটি ফল শিট প্রদর্শন করে আমিনুল হক বলেন, ওই কেন্দ্রে প্রথমে ধানের শীষ প্রতীকে ৪৫৬ ভোট, আম প্রতীকের তারিকুল ইসলাম ৫৮৩ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে শূন্য ভোট দেখানো হয়েছিল। পরে ফল শিট ছিঁড়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ঘরে ৪৫৬ ভোট বসানো হয়েছে। তার কাছে এমন ৩০টির বেশি ফল শিট রয়েছে, যেখানে কোনো পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর নেই। অনেক কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার নিজেই সিল দিয়েছেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আমিনুল বলেন, ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে জামায়াত প্রার্থী বিভিন্ন কেন্দ্রে, বিশেষ করে বাউনিয়াবাদ আইডিয়াল স্কুল ও লালমাটি কমিউনিটি স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে বৈঠক করেছেন, যা আইনত দ-নীয়। বিষয়টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন।