পুনর্গঠন চায় ইউরোপ

পর্দা নেমেছে জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত ন্যাটোর নিরাপত্তা সম্মেলনের। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তিনদিনব্যাপী এই সম্মেলন গতকাল রবিবার শেষ হয়েছে। এবারের সম্মেলনে ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং তার সমাধানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমশ সম্পর্কের অবনতির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। এই সম্মেলন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক ‘পুনর্গঠন’, তথা নতুনভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপের নেতারা। ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলনে তারা এ আহ্বান জানান। পাশাপাশি ন্যাটোর প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা এবং সামরিক সহায়তা নিয়ে কথা বলেন। পরে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গেও বৈঠক করেন। চীনা বার্তা সংস্থা জানায়- ওয়াং বলেন, সংলাপ সংঘাতের চেয়ে ভালো, সহযোগিতা দ্বন্দ্বের চেয়ে উত্তম। এবারের বার্ষিক সম্মেলনে ৬০টির বেশি দেশের নেতারা অংশ নেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ‘নতুন ট্রান্স-আটলান্টিক অংশীদারত্ব’-এর আহ্বান জানান। মের্ৎস বলেন, ন্যাটোর অংশ হওয়া শুধু ইউরোপের নয়, যুক্তরাষ্ট্রেরও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা। আসুন, আমরা একসঙ্গে ট্রান্স-আটলান্টিক আস্থা পুনরুদ্ধার করি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, একটি শক্তিশালী ইউরোপ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। মের্ৎস বলেন, ন্যাটোর অংশ হওয়া শুধু ইউরোপের নয়, যুক্তরাষ্ট্রেরও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা।

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট নেতাদের অনেকেই অংশগ্রহণ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময় যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্ক নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা অংশ হিসেবে নেতারা সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন ন্যুসাম বলেন, ট্রাম্পের সময়কাল সাময়িক এবং কয়েক বছরের মধ্যে তিনি আর ক্ষমতায় থাকবেন না। তার এই মন্তব্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে আশ্বস্ত করার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিন বলেন, ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং সেই সম্পর্ক বজায় থাকবে। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। ওয়াশিংটনের রাজনীতির বক্তব্য নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপ এবং আন্তর্জাতিক নীতি পরিবর্তনের পরিকল্পনা ইউরোপে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।