রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা জেনেভায়

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি-বিষয়ক আলোচনা নতুন করে শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধরত দুই পক্ষ আরেক দফা শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। এই আলোচনা থেকে ইতিবাচক ফল মিলবে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও কেবল কিয়েভকেই ‘বারবার’ ছাড় দিতে বলায় বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন তিনি। আলোচক দলের নেতা পরিবর্তনের মাধ্যমে মস্কো সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি করাতে চাইছে বলেও তিনি গত শনিবার অভিযোগ করেছেন, বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

১৯৪৫ সালের পর ইউরোপে হওয়া সবচেয়ে বড় যুদ্ধের অবসানে ডোনাল্ড ট্রাম্পও এখন মস্কো-কিয়েভ দুই পক্ষকেই ব্যাপক চাপ দিচ্ছেন। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ হবে, সবার জন্য সহায়ক হবে বলে আমরা সত্যিই আশা করছি। কিন্তু সত্যি কথা বলতে মাঝে মাঝে মনে হয়, সবাই যেন পুরোপুরি ভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছে। জেলেনস্কি মস্কোর ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইউক্রেনে বেশি বেশি অস্ত্র সরবরাহসহ নানামুখী উপায়ে রাশিয়াকে চাপ দিয়ে শান্তিতে রাজি করাতে মিত্রদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন। চার বছর আগে, ইউক্রেনের রুশ অভিযান শুরুর কয়েক দিন আগে একই সম্মেলনে

বক্তৃতা দেওয়ার কথা স্মরণ করে জেলেনস্কি বলেন, পশ্চিমা কর্মকর্তারা অনেক কথা বলেন। কিন্তু সেই তুলনায় তেমন পদক্ষেপ নেন না। তিনি আরও বলেন, পুতিনকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় বাধ্য করার ক্ষমতা রয়েছে ট্রাম্পের এবং এই যুদ্ধবিরতি খুবই দরকার।

শান্তি আলোচনায় বসার কথা নিশ্চিত করেছে ক্রেমলিনও। মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট পুতিনের সহকারী ভøাদিমির মেডিনস্কি। ইউক্রেনে সংঘাত নিরসনই হবে আলোচনার মূল লক্ষ্য। তবে এ বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা প্রকাশ করা হয়নি। গত সপ্তাহে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত সবশেষ বৈঠকটিকে গঠনমূলক কিন্তু কঠিন বলে মন্তব্য করেছে মস্কো। রাশিয়া বলছে, যেকোনো টেকসই সমাধানের জন্য ইউক্রেনকে ভূখণ্ড ও নিরাপত্তাবিষয়ক কিছু শর্তে রাজি হতে হবে।