গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৮

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন করে গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। নাসের হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, হামলাটি গাজায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের নির্ধারিত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে ঘটে। এছাড়া উত্তর গাজার আল-ফালুজা এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে হামলায় আরও চারজন নিহত হন বলে আল-শিফা হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল। তবে দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, উত্তর গাজার একটি ভবনে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঢোকার পর সেখানে হামলা চালিয়ে অন্তত দুজনকে হত্যা করা হয়েছে। আরও একজনকে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে হত্যার কথাও বলা হয়েছে, যদিও এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

একই দিনে দক্ষিণ লেবাননেও একাধিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র রাখার গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই হামলার অভিযোগ উঠছে। এদিকে, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে সব ‘প্রতিবন্ধকতা’ অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। গত শনিবার ইথিওপিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়নের সম্মেলনে তার পক্ষে- ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তফা আব্বাস লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান। লিখিত ওই বক্তব্যে আব্বাস বলেন, চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নে ইসরায়েলি দখলদারদের তৈরি করা সব বাধা দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর আমরা জোর দিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, গাজার দৈনন্দিন শাসনকাজ তদারকির জন্য গঠিত টেকনোক্র্যাট কমিটির কাজেও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বাধা রয়েছে। পরিষেবার ধারাবাহিকতা রক্ষা, মানবিক সহায়তা সমন্বয় ও দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য এসব বাধা দূর করা জরুরি। হামাসের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েল ‘ক্রমাগত লঙ্ঘন’ করে চলেছে।