গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ার মধ্য দিয়ে কার্যত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর বর্তমান উপদেষ্টারা কে কী করবেন তা নিয়ে কৌতূহল আছে অনেকের মনে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এদের কেউ ফিরবেন শিক্ষকতায়, কেউ লেখালেখিতে আর কেউ ফিরবেন আগের পেশায়। অনেকে আবার বিশ্রাম নিতে চান কিছু দিনের জন্য।
বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিলিয়ে আছেন চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চারজন বিশেষ সহকারীও রয়েছেন।
এদের মধ্যে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ আবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় ফিরবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি সেখানে কর্মরত ছিলেন। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি জানান, কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে মার্চের দিকে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। সরকারি বাসায় থাকতেন না বলে বাসা ছাড়ার প্রশ্ন নেই তার।
আলোচিত উপদেষ্টাদের একজন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। নির্বাচনের পর উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে তিনি আবার আগের পেশায় অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরে যাবেন। এ ছাড়া মৌলিক বিষয়ে লেখালেখি ও গবেষণা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খুব অপেক্ষায় আছি, কখন আমার সেই প্রিয় জীবনে ফিরে যাব।’
দায়িত্ব শেষে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন আপাতত কিছুদিন বিশ্রাম নেবেন। এরপর আগের মতোই লেখালেখিতে ফিরতে চান তিনি।
আর গণমাধ্যমে সম্পৃক্ত থাকার ইচ্ছে পোষণ করেছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। উপদেষ্টা হওয়ার আগে তিনি সংবাদপত্রে কলাম লিখতেন। নতুন সরকার গঠনের পর আগের মতোই সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে চান তিনি।
আরেক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান যিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদসহ আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা জানান, সরকারি দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে পবিত্র রমজান মাস। অবসর সময়ে রোজা ও ইবাদতে মনোনিবেশের পরিকল্পনা রয়েছে তার। রমজানের পর আবার লেখালেখি ও বই পড়ায় ফিরবেন।
আলোচিত আরেক উপদেষ্টা পরিবেশ, বন ও জলবায়ুপরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, দায়িত্ব শেষে তিনি আবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) কাজে ফিরবেন।
দায়িত্ব শেষে কিছুদিন নিরিবিলি থাকার পরিকল্পনা রয়েছে সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদের। তিনি জানান, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা লিখবেন। পাশাপাশি ব্রতীতে ফিরে যাবেন এবং মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করবেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যুক্ত নারীদের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার।