৫ বিলিয়ন ডলার দেবে শান্তি বোর্ড

শান্তি বোর্ডের সদস্য দেশগুলো গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় পুনর্নির্মাণের জন্য ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এমনটাই ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত শান্তি পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হবে। পাশাপাশি চলতি বছর এপ্রিলের শুরুতে গাজায় প্রস্তাবিত বহুজাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনীর অংশ হিসেবে এক হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। সেনাবাহিনী মুখপাত্র ডনি প্রামোনো জানিয়েছেন, জুনের মধ্যে আরও আট হাজার সৈন্য প্রস্তুত থাকবে বলে। তবে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ থেকে সহায়তার আশ্বাসের মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা ১১ জন নিহত হয়েছে। এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিশাল এলাকাকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের একটি বিতর্কিত প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল সরকার। ১৯৬৭ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের পর এ প্রথমবারের মতো তেল আবিব এমন পদক্ষেপ নিল। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাব উপেক্ষা করে নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে ‘মারাত্মক উসকানি’ বলে অভিহিত করেছে ফিলিস্তিন।

ট্রাম্প পোস্টে বলেছেন, বোর্ডের সদস্য দেশগুলো সহায়তার পাশাপাশি গাজার নিরাপত্তা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, ওয়াশিংটনের ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিসে (সম্প্রতি স্টেট ডিপার্টমেন্ট এটি ট্রাম্পের নামে নামকরণ করেছে) শান্তি পর্ষদের প্রথম বৈঠক হবে। বৈঠকে ২০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিসহ ও রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত থাকবেন। এ শান্তি বোর্ডের গঠন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে সমর্থিত হয়েছে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ, যার লক্ষ্য গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাত সমাধান। গত বছর উভয়পক্ষ এ পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে এবং অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে উভয়পক্ষ একে অন্যকে লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনীর জন্য এক হাজার সেনা প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। সেনাবাহিনী মুখপাত্র ডনি প্রামোনো রয়টার্সকে বলেছেন, ইন্দোনেশিয়া এপ্রিলের প্রথম দিকে গাজায় প্রস্তাবিত শান্তিরক্ষী বাহিনীর অংশ হিসেবে এক হাজার সৈন্য মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এ ছাড়া জুনের মধ্যে আরও আট হাজার সৈন্য প্রস্তুত থাকবে। এ বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা জাতিসংঘের অনুমোদিত শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেবে, কিন্তু এটি কোনো রাজনৈতিক স্বীকৃতি বা ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বোঝাবে না।

ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ থেকে সহায়তার আশ্বাসের মধ্যেই গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে গত রবিবার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। চিকিৎসাকর্মীদের সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। হাসপাতাল সূত্র আলজাজিরাকে বলেছে, গাজার উত্তরাঞ্চলে জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়া তাঁবুগুলো লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন। সূত্রগুলো আরও বলে, দক্ষিণের খান ইউনিস এলাকাতেও ইসরায়েলি হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আলজাজিরা জানিয়েছে, গাজা নগরের পূর্বদিকে তাল আল-হাওয়া এলাকায় এক হামলায় ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) কমান্ডার সামি আল-দাহদুহ নিহত হয়েছেন। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এগুলো হচ্ছে মাঠে রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি করার স্পষ্ট চেষ্টা এবং গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব প্রচেষ্টা ও সংস্থাকে অকার্যকর প্রমাণ করার বার্তা। তার ভাষায়, সব পক্ষ যখন যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, তখনো দখলদার শক্তি তাদের আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, পশ্চিম তীরের জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানিয়েছে, কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মৎরিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ যৌথভাবে এ প্রস্তাবটি পেশ করেছিলেন। প্রস্তাব পাসের পর স্মৎরিচ বলেন, আমাদের সব জমির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে আমরা বসতি স্থাপনের বিপ্লব চালিয়ে যাচ্ছি। ফিলিস্তিনিদের অধিকাংশ জমিরই আনুষ্ঠানিক সরকারি নিবন্ধন নেই। এটি একটি দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া, যা ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পরপরই বন্ধ করে দিয়েছিল ইসরায়েল। জমির নিবন্ধন মূলত স্থায়ী মালিকানা নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দখলদার শক্তি অধিকৃত এলাকার জমি বাজেয়াপ্ত করতে পারে না কিংবা সেখানে নিজেদের নাগরিকদের জন্য বসতি স্থাপন করতে পারে না। কিন্তু ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ ঘোষণার মাধ্যমে ইসরায়েল এখন সেই আইনি বাধাই দূর করতে চাইছে।