সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনের নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি গতকাল সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এমপিদের সঙ্গে একই সময়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। জামায়াত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার শপথের সময় সভাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।
শপথ অনুষ্ঠান শেষে এক প্রশ্নের জব্বাবে রুমিন ফারহানা বলেন, এবার দেশের ৩০ শতাংশ মানুষের রিপ্রেজেন্টেশন (প্রতিনিধিত্ব) থাকবে না, এটা মাথায় রেখেই আমাদের সংসদে বসতে হবে। আগে সংসদে বিএনপি ছিল না, এখন আওয়ামী লীগ ও বাম দলগুলো নেই।
নির্বাচন কমিশন বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। দেশের শীর্ষ একটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে বিরত থাকায় এর প্রভাব পড়ছে। আওয়ামী লীগও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভোট বর্জনের ডাক দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন করায় তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ভোট দেয়নি।
এদিকে গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এক ভিন্নধর্মী ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠান হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য পদের পাশাপাশি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। তবে বিএনপির সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করেছেন। এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে শপথকক্ষে এক ধরনের নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বলে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সাদা ও নীল রঙের দুটি ফরম হাতে নিয়ে বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনো এটা ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ পড়াবেন সেটারও বিধান করতে হবে।
নির্বাচনে রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) বড় ব্যবধানে নির্বাচনে বিজয়ী হন। শপথের পর, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। শপথ গ্রহণের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সংসদীয় দলের বৈঠকে অংশ নেন। সেই বৈঠকে আলোচনা হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সংসদে দলের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দিকনির্দেশনার বিষয়ে।