ওয়ার্ড কমিশনার থেকে মেয়র, এমপির পর এবার মন্ত্রী আরিফ

প্রায় আড়াই দশক আগে একজন ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা দুই মেয়াদে ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নির্বাচিত মেয়র। সবশেষ ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত সিসিক নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তে মেয়র নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি সিলেট নগর ছেড়ে সীমান্তবর্তী জনপদ কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য পদে বিজয়ী হন। আর প্রথম বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই পেলেন আরও বড় দায়িত্ব। নতুন সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ করেছেন। আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনও বর্ণাঢ্য। ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন দীর্ঘদিন। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।

জনপ্রতিনিধি হিসেবে একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ শুরু করে সরকারের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় আরিফুল হককে নিয়ে সিলেট জুড়ে এখন আলোচনা। প্রশংসিত হচ্ছেন বিভিন্ন মহলে। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘তৃণমূলের একজন কর্মীকে দল যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, কাজের মাধ্যমেই তিনি সেটার প্রতিদান দিতে চান। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশের জন্য কাজ করে যাবেন।’  

এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, একজন তৃণমূলের কর্মী থেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীরা অত্যন্ত খুশি।

আরিফুল হক চৌধুরী এবারের সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। পরে তাকে সিলেট-৪ আসনে মনোনয়ন প্রদান করা হয় এবং অল্প দিনের প্রস্তুতি ও প্রচারণায় তিনি ভোটের মাঠে বড় চমক দেখান। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে লক্ষাধিক ভোট বেশি পেয়ে তিনি বিজয়ী হন।

ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে আরিফুল হকের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, সিলেট শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি পর্যায়ক্রমে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বর্তমানে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের আস্থাভাজন ছিলেন আরিফুল। সাইফুর রহমানের নির্দেশনায় সিলেটের উন্নয়ন কর্মকান্ড তদারকি করতেন তিনি। ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হন আরিফুল। ওয়ার্ড কমিশনার হয়েও তিনি প্রভাবশালী মন্ত্রী সাইফুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় অনেকেই তাকে ‘ছায়া মন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করতেন।  

২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম বার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে তিনি বিজয়ী হন। এরপর ২০১৮ সালে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি বিজয়ী হন, তবে ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সিসিক নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। এবার প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও নির্বাচনে নিজের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখেন আরিফুল। প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিসভায়ও স্থান করে নিলেন সিলেটের জননন্দিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।