কুষ্টিয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হয়েছেন। কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে বাইপাস সড়কের কুষ্টিয়া স্টোরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সিএনজি চালক এবং তিন নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার খাজানগর এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল (২৮), সিএনজিচালক জাকারিয়া, যাত্রী আমেনা খাতুন ও কমেলা খাতুন। তারা সবাই খাজানগরের দিকে যাচ্ছিলেন। অন্য এক নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। শুধু এই পাঁচজন নয়, গত দুদিনে নিহত হয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে মৌলভীবাজারের রয়েছেন ৩ জন। কক্সবাজার ও গোপালগঞ্জে ১জন করে।
কষ্টিয়ার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিএনজিটি অটোরিকশাটি শহরের কবুরহাট থেকে বাইপাস হয়ে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে সিএনজি অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আরও দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জয়দেব জানান, ঘটনাস্থলেই তিনজন এবং আহত দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। খুলনা থেকে ছেড়ে আসা তরল গ্যাসভর্তি ও ট্রাক লরিটি ঈশ^রদীর দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকচালক পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, পিকআপ ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সেখানে ৩ জন নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার পর সদর উপজেলার শাহপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন অটোরিকশাচালক আলী নুর, যাত্রী রুবেল মিয়া ও রেহান মিয়া। চালক আলী নুরের বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের কালেঙ্গা গ্রামে। রুবেল ও রেহান মিয়ার বাড়ি মৌলভীবাজার শহরের দরগা মহল্লায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতরা সিএনজিযোগে মৌলভীবাজার থেকে শ্রীমঙ্গলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজি অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সিএনজিচালকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনজনের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে আছে।
পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় গাড়িচাপায় নুরুল হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার ছেলে শামীম হোসেন (১২)। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চকরিয়ার নলবিলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুরুল হোসেন চকরিয়া উপজেলার বরইতলী এলাকার বাসিন্দা। চিরিংগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবা নুরুল হোসেন ও তার ছেলে শামীম বরইতলী থেকে মোটরসাইকেলযোগে চিরিংগা বাজারে যাচ্ছিলেন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার নলবিলা এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় তারা পড়ে গেলে ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। এতে দুজনে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা মারা যায়। শামীমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবা নুরুল হোসেনর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। চিরিংগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আমিন জানান, দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও ঘাতক ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার ডুমদিয়ায় বাসচাপায় অজ্ঞাতনামা (৬৫) এক নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস ওই নারীকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। ওই নারী ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ডুমদিয়ায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। গোপালগঞ্জ ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের এস.আই নৃপেন বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার জেরে উত্তেজিত এলাকাবাসী রাস্তায় ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করে এবং সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য যান আটকাপড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা থেকে অবরোধ তুলে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।