যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করবেন। নিজের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প চীন সফর করেছিলেন। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সফর বিষয়ে সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চলছে। এর আগে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই দেশের মধ্যে ‘চমৎকার’ ও ‘ভালো যোগাযোগ’ থাকার কথা জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প নিজেও সফর প্রসঙ্গে বলেছেন, এটি হবে ‘জমজমাট সফর’ এবং চীনের ইতিহাসের বড় আয়োজনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চান।
ট্রাম্পের চীন সফরের সময়সূচি ঘোষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায় বাতিল করার কিছুক্ষণ আগে আসে। যেখানে ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা বাতিল করা হয়েছে। যদিও সুপ্রিম কোর্টকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ট্রাম্প বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে করা আইনের ‘সেকশন ১২২’ ধারা প্রথমবারের মতো সক্রিয় করে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এই কৌশলটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে তার নীতি সমর্থনের জন্য অন্যান্য দেশকে প্রভাবিত করার জন্য ব্যবহার করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। এই সফরে শুল্কবিষয়ক আলোচনাসহ দুই দেশের বাণিজ্য, রপ্তানি ও আমদানি সম্পর্ক নিয়েও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বেইজিংয়ের আলোচনার সূচিতে সম্ভবত শুল্ক আরোপের বিষয়টি থাকবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য হুমকির প্রতি চীনের প্রতিক্রিয়াও থাকবে যার মধ্যে আর সয়াবিন না কেনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। চীনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানি হওয়া শীর্ষ পণ্য ছিল সয়াবিন। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় পশ্চিমা নেতারা বেইজিং সফর করেছেন; যেমন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সে সফরে চীনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি ও বৈদ্যুতিক গাড়ি ক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প আরোপিত পাল্টা শুল্ক বাতিল করার পর চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে ভারত। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায়ের পর দেশটিতে শুল্ক ঘিরে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র গতকাল রবিবার এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘিরে এশিয়ার দেশগুলো যেসব সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তার একটি ভারতের এই পদক্ষেপ। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ভারতের ওই সূত্র বলেছে, দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পর সফর বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সফরের নতুন তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।