দায়িত্ব পালনের সময় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দুর্নীতিমুক্ত রাখবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা দুই মন্ত্রী (শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ) দুর্নীতি করব না, করতে দেব না, এটা আমাদের অঙ্গীকার।’
গতকাল রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যে কোনো সিদ্ধান্ত সম্মিলিতভাবে নেব। দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় হবে। রাজনীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় হবে। এই দুটি বিষয় থেকে মন্ত্রণালয়কে মুক্ত রাখব।’ এ সময় শিক্ষামন্ত্রীর পাশে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আর রাজপথে নামার প্রয়োজন হবে না। সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
মতবিনিময় সভায় অন্তত তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে চেয়ারম্যান করা, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ, আগের মতো প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগসহ ১৩ দফা দাবি জানানো হয়। এ সময় শিক্ষক- কর্মচারী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
এহছানুল হক মিলন বলেন, যদিও বাজেট সংক্রান্ত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবু শিক্ষকদের অন্যান্য দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। নতুন বাজেটে অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। তবে সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা ও সমাধান করা হবে। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা চলছে। একজন ব্যক্তিকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভায় বিবেচনা করা হবে।’
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্র্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিয়োগব্যবস্থায় যেসব পরিবর্তন এসেছে, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষকদের অবসর ভাতা, কল্যাণ ট্রাস্টসহ অন্যান্য আর্থিক বিষয় নিয়েও শিগগির বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে অবগত জানিয়ে এ সময় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা যে দায়িত্ব পালন করেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।’