দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বড় পরাজয়ে চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে অন্যতম আয়োজক দেশ ভারত। এই হারের পর ভারতের কড়া সমালোচনা করেছেন ব্যাটিং কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার। তার মতে, পরিস্থিতি বুঝে খেলার বদলে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখানোই ভারতের পতনের প্রধান কারণ।
সুনীল গাভাস্কার বলেন, ‘যেভাবে ব্রেভিস এবং মিলার জুটি গড়েছিল, ঠিক সেইভাবেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের খেলতে হতো। কিন্তু ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা তা করেনি। তারা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিল, সব ডেলিভারিতে মারতে যাচ্ছিল এবং উইকেট হারিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার এই জয় প্রাপ্য। ভারত প্রতিপক্ষের ইনিংস থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি। তারা প্রতিটি বলেই বাউন্ডারি মারার চেষ্টা করছিল। এইভাবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলা যায় না। প্রতিপক্ষ থেকে শেখা উচিত। যদি তারা এই চ্যালেঞ্জিং পিচে ভালো স্কোর করে, তাহলে আপনাকে আপনার অহং ত্যাগ করে, পর্যবেক্ষণ করে, এবং খেলার কৌশল অনুযায়ী খেলায় সামঞ্জস্য আনতে হবে।’
ভারতের ইনিংসের শুরুটা ছিল ভয়াবহ। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ২৬ রানে ৩ উইকেট হারায় সূর্যকুমার যাদবের দল। ইশান কিশান ০, অভিষেক শর্মা ১৫ এবং তিলক বর্মা ১ রান করে আউট হন। বিশেষভাবে তিলক বর্মার ব্যাটিং নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন গাভাস্কার। তার মতে, ম্যাচের ওই পরিস্থিতিতে তিলককে সময় নিয়ে উইকেটে টিকে থেকে জুটি গড়া উচিত ছিল। তখন আস্কিং রানরেট ছিল ৯.৫। ফলে ধৈর্য ধরে খেললেও ম্যাচে ফেরা সম্ভব ছিল বলে মত তার
গাভাস্কারের ভাষায়, ‘তিলক বর্মা খুবই স্ট্রিট-স্মার্ট ব্যাটসম্যান। কিন্তু এই ম্যাচে তার খেলার ধরন আমাকে হতাশ করেছে। ইশান কিশান প্রথম ওভারে আউট হন। আস্কিং রেট তো আর ১৫ ছিল না, ছিল প্রায় ৯.৫ রান। তাই তিলক নিজের জন্য আরও সময় নিতে পারত। অন্য দিকে, অভিষেক শর্মা পরপর তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছে। তাই দায়িত্ব ছিল তিলকের ওপর। কিন্তু সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়। সবসময় পাওয়ারপ্লেতে ৭০ রান করার প্রয়োজন নেই। ৫৫–৬০ রানও একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম হতে পারত। কিন্তু ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের অবিবেচক খেলায় তাদের পতন ঘটেছে।’
সুপার এইটে ভারতের পরবর্তী ম্যাচের জন্য একাদশ তৈরি নিয়েও পরামর্শ দেন গাভাস্কার, ‘জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমি চাইব অক্ষর প্যাটেল আবার খেলুক। কারণ জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইন-আপে খুব বেশি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নেই। হয়তো তাকে আর্শদীপ সিংয়ের জায়গায় নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আর্শদীপ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খুব ভালো বল করেছে। এমন ভালো ছন্দে থাকা কাউকে পরিবর্তন করা উচিত নয়। তাই হয়তো তারা পরিবর্তন নাও করতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি, ওয়াশিংটন সুন্দরই বাদ পড়বে। তাকে ঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সে মাত্র দুই ওভার বল করেছে। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে সে চার ওভার বল করেছে কিন্তু কোনো উইকেট পায়নি। আমি মনে করি তার সময় শেষ হয়ে গেছে।’