পুরান ঢাকার ইফতার সংস্কৃতি বদলে যাচ্ছে

রমজান মাস এলেই পুরান ঢাকার অলিগলি থেকে ভেসে আসে ইফতারের সুগন্ধ। চকবাজার, বংশাল, নাজিরাবাজার কিংবা ইসলামপুরপ্রতিটি এলাকায় সাজে বাহারি ইফতারের পসরা। শতবর্ষের ঐতিহ্য নিয়ে বয়ে চলা বোরহানি, কাবাব, বুটের ডাল, বেগুনি, পেঁয়াজু, জিলাপি, শরবত কিংবা বিখ্যাত ‘বড় বাপের পোলায় খায়’এসব খাবার এক সময় শুধু পুরান ঢাকার নয়, পুরো রাজধানীর মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল।

সময়ের পরিবর্তনে সেই চিরচেনা ইফতারের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বিদেশি খাবার। ফলে ঐতিহ্যবাহী স্বাদের পাশাপাশি এখন দেখা মিলছে পিৎজা, বার্গার, পাস্তা, ফ্রাইড চিকেন, শাওয়ারমা ও নানা ধরনের ফাস্টফুড।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ঐতিহ্যবাহী ইফতারের চেয়ে বিদেশি ও ফাস্টফুড আইটেমের প্রতি বেশি ঝুঁকছে। পিৎজা, বার্গার, ফ্রাইড চিকেন, পাস্তা কিংবা বিভিন্ন চেইন রেস্টুরেন্টের কম্বো অফার এখন ইফতারের টেবিলে জায়গা করে নিচ্ছে।

চকবাজারের একাধিক বিক্রেতা জানান, ‘আগে শুধু ঐতিহ্যবাহী আইটেম রাখতাম। এখন ক্রেতারা নতুন স্বাদ চায়। তাই শাওয়ারমা, গ্রিল, এমনকি চিজের বিভিন্ন আইটেমও রাখতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বিদেশি খাবারের চাহিদা বাড়ায় বিক্রিও তুলনামূলকভাবে ভালো হচ্ছে।

এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জানান, ‘বন্ধুবান্ধব মিলে ইফতার করতে আমরা এখন প্রায়ই কোনো না কোনো ফাস্টফুড রেস্টুরেন্টে যাই। সেখানে বসার পরিবেশ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগএসব বিষয় আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

পুরান ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা মিশকাত ফাহিম বলেন, ‘আমরা পুরান ঢাকাইয়ারা এখন ট্র্যাডিশনাল খাবার খাইতেও কম্ফোর্ট খোঁজা শুরু করেছি। যেমন আগে নাজিরা বাজার ছাড়া অন্য কোথাও যেতাম না; কিন্তু এখন সেই ভিড় স্কিপ করতে আমরা রেস্টুরেন্টে যেয়ে ওই খাবারটাই কিনে খাচ্ছি। ফলে অনেকেই এখন ভিড় ঠেলে খাবার নেওয়া থেকে রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পুরান ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা তোশিন বলেন, ‘চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো আমাদের পছন্দের তালিকায় থাকলেও বর্তমানে আমার পরিবারের সবাই এখন আর ওইসব খাবারের প্রতি তেমন আগ্রহী নয়। রেস্টুরেন্টেই এখন এসব খাবারের পাশাপাশি ফাস্টফুড খেতে ভালো লাগে।’

রমজানের আবেগে পুরান ঢাকার ইফতারের আবেদন এখনো পুরোপুরি মøান হয়ে যায়নিএমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। পুরান ঢাকার ইফতার শুধু খাবার নয়, এটি একটি ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এসব পদ রমজানের আবহকে আলাদা মাত্রা দেয়।