ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের

কয়েক দশক ধরে টিকে থাকার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ হুমকির মুখে পড়েছে ইরান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের বৈঠকের আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা এখন ‘হাতের নাগালে’। তবে এই ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ কাজে লাগবে কি না, তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটন কূটনীতিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তার ওপর। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। তবে ট্রাম্পের করা দাবিকে ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। গতকাল বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ প্রতিক্রিয়া জানান। এদিকে, ইরান সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে, তবে তারা সীমা অতিক্রম করতে পারবেন না। গত শনিবার ইরানে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি প্রথমবারের মতো সরকারের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন।

ওমানের মধ্যস্থতায় আজ বৃহস্পতিবার জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। ওমান আশা করছে, চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে দুপক্ষই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ইরান সমঝোতার কথা বললেও মঙ্গলবার কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে তেহরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তিনি কূটনীতি পছন্দ করলেও ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে দেবেন না। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান দিন দিন অত্যাধুনিক মিসাইল তৈরি করছে। যার কিছু ইতিমধ্যে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারবে। এখন তারা এমন মিসাইল তৈরির পথে আছে, যেটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রেই আঘাত হানতে পারবে। ইরানের বর্তমান সরকারকে অত্যাচারী দাবি করে তিনি বলেছেন, তারা নিজ দেশের হাজারো মানুষকে হত্যা করেছে এবং অনেককে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ওয়াশিংটনের হামলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আবারও গোপনে অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, তারা একটি চুক্তি চায় ঠিকই, কিন্তু তাদের মুখে এখনো সেই কথাটি শুনিনি যে, আমরা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করব না। যদিও গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরাঘচি বলেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এ বিষয়ে আমরা সবসময়ই ‘পরিষ্কার’। তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার আমাদের জনগণের রয়েছে।

ট্রাম্পের করা দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং জানুয়ারির বিক্ষোভে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে তারা যা বলছে, তা শুধু ‘ডাহা মিথ্যা’র পুনরাবৃত্তি। বাঘাই সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দাবির কথা উল্লেখ না করলেও তার এ মন্তব্যটি ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরে করা হয়। চলতি মাসে আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে লক্ষ্যভেদ করার সক্ষমতা তেহরানের নেই। তবে ওয়াশিংটন যদি কোনো হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা দেশটির ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে ইরান। এদিকে, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার অধিকার থাকলেও তারা সীমা অতিক্রম করতে পারবেন না বলে সতর্ক করেছে ইরান সরকার। গত শনিবার ইরানে শিক্ষার্থীরা আবারও বিক্ষোভ শুরু করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি বলেন, পবিত্র বিষয় ও জাতীয় পতাকা এগুলো এমন দুটি সীমারেখা, যেগুলোকে সম্মান জানানো সবার দায়িত্ব। যতই ক্ষোভ থাকুক না কেন, এ সীমা অতিক্রম করা বা এ থেকে বিচ্যুত হওয়া উচিত নয়। ইরান সরকারের এ মুখপাত্র অবশ্য শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের কারণ বুঝতে পারছেন জানিয়ে বলেন, ইরানের শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে ক্ষত রয়েছে। তারা এমন দৃশ্য দেখেছে, যা তাদের বিচলিত ও ক্ষুব্ধ করতে পারে।