এজলাসে ভাঙচুর-বিচারককে ভয়ভীতির অভিযোগ

বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট লিংকন কারাগারে

বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে ঢুকে এজলাস ভাঙচুর, বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিচারকার্যে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম সাইদুর রহমান লিংকনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দ্রুত বিচার আইনের মামলায় তার জামিন আবেদন নাকচ করে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তুল্লাহ এ আদেশ দেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর আদালত চত্বরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এক পর্যায়ে মাইকিং করে আদালত বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হলে বরিশালের প্রায় সব আদালতের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে। এসময় দূরদুরান্ত থেকে আদালতে আসা সেবা গ্রহীতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

ঘটনার সূত্রপাত:  বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। তাকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই দিন বিকেলে একদল আইনজীবী বরিশাল অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল ও ভাঙচুর চালান এবং বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকনের উপস্থিতি দেখা যায়।

এ ঘটনায় ২৪ ফেব্রুয়ারি মহানগর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হামলার ঘটনায় বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার অ্যাডভোকেট লিংকনসহ ১২ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে অ্যাডভোকেট লিংকনকে তার চেম্বার থেকে সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের সহায়তায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় মামলার অন্য আসামিরা হলেন আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন পান্না, অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট সাঈদ, অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দিন বাবলু, অ্যাডভোকেট তারেক আল ইমরান, আবুল কালাম আজাদ ইমনসহ অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জন।