জামায়াত আমির বললেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনা সরকারসমর্থিত মব-কালচার

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে, তা বর্তমান সরকারসমর্থিত ‘মব-কালচারের’ আনুষ্ঠানিক সূচনা বলে মনে হচ্ছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক ও পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এমন অনাকাক্সিক্ষত কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতির অবশিষ্টাংশও ধ্বংস হয়ে যাবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। তাছাড়া এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকে বুধবার দিনভর একদল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিক্ষোভ-উত্তেজনার মধ্য দিয়ে গভর্নরের পদ থেকে বিদায় নিতে হয় আহসান এইচ মনসুরকে। এদিন মো. মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। ওইদিন আহসান এইচ মনসুরের একজন উপদেষ্টাকে ‘মব’ তৈরি করে ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও তার উপদেষ্টার মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের এভাবে অপমান করার অধিকার কারও নেই। এমনিতেই ফ্যাসিবাদের নাগপাশে পড়ে দেশের অর্থনীতিতে চরম দুরবস্থা, সর্বস্তরে দুর্নীতির মহামারী, সঙ্গে রয়েছে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট। তার পাশাপাশি যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এমন অনাকাক্সিক্ষত কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে দেশের অর্থনীতির অবশিষ্টাংশও ধ্বংস হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মব সৃষ্টি করে দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন নানা উৎপাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সত্যিকারভাবে একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে এসব অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে দলীয় আনুগত্য নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্বের অভাব দেশের আর্থিক খাতকে চরম অরাজকতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর চরম অর্থনৈতিক সংকটের সময় তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদেশের উচ্চতর ডিগ্রি এবং আইএমএফ-এ কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি রিজার্ভ পুনরুদ্ধার ও ব্যাংকিং খাত সংস্কারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন। কিন্তু গতকাল এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির (মব) মাধ্যমে তাকে ব্যাংক ত্যাগ করতে বাধ্য করা এবং পরবর্তীকালে সরকার কর্র্তৃক তার নিয়োগ বাতিল করাকে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

মিরপুরে এমপিদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা-বিষয়ক সভা : নিরাপদ সমাজ গড়তে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত দরকার বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মিরপুর এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, নকল টাকা ছাপানোসহ সব অবৈধ কাজ বন্ধে আমরা বদ্ধপরিকর। অপরাধ কঠোরভাবে দমনের পাশাপাশি জনমনে শান্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও জনবান্ধব, পেশাদার ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

গতকাল ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম ও ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল আবদুল বাতেনের (অব.) সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা এবং উভয় আসনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মিরপুরবাসীসহ সব নাগরিককে অনুরোধ করছি আপনারা সচেতন থাকুন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, প্রয়োজনে তথ্য দিন, সহযোগিতা করুন। নিরাপদ সমাজ গড়তে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। আমরা একসঙ্গে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সম্প্রীতির মিরপুর গড়ে তুলব।

সভায় ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৬ নির্বাচনী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নাগরিকদের নিরাপত্তা, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জাতীয় সংসদ সদস্যগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন।