ইফতার মাহফিলে ডা. শফিকুর

জামায়াত সংসদে গতানুগতিক বিরোধী দল থাকবে না

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখবে না বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের কোটি মানুষ ১৮ বছর ধরে আজকের এই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ দেখার অপেক্ষায় ছিল। আমরা গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখব না। দেশের উন্নয়নে সরকারের যেকোনো উদ্যোগে সহযোগিতা করলেও জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে জামায়াত। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় কারি বেলাল হোসাইনের পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। জামায়াতের ইফতারে যোগ দিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী ইফতার মাহফিলে পৌঁছালে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতারা তাকে স্বাগত জানান। এ সময় মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটসঙ্গী দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা এই ইফতারে যোগ দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০১৩ সালের এই দিনে দলটির নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে অন্যায়ভাবে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। এতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দেশের মানুষ। শুধু জামায়াতের নেতাকর্মীই নন, সাধারণ মানুষও সেদিন রাস্তায় বেরিয়ে এসেছিলেন।

দিনটিকে ইতিহাসের জঘন্যতম ‘কালো দিন’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এমন একজন ইসলামি ভাষ্যকারকে ফাঁসি দিয়েই ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষান্ত হয়নি। তারা বিক্ষুব্ধ জনতার বুকে গুলি চালিয়েছিল। একজন ব্যক্তির ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে ১৬৪ জন মানুষ হত্যার নজির মনে হয় ইতিহাসে বিরল।