বাবা বিখ্যাত রাগবি খেলোয়াড়, ছেলে খেলছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার ড্যারিল মিচেল যদি ব্ল্যাক ক্যাপসের জার্সি না পরতেন, তবে খুব সম্ভবত তাকে রাগবিতে খেলতে দেখা যেত। ড্যারিলের বাবা প্রখ্যাত রাগবি খেলোয়াড় ও ইংল্যান্ড নারী রাগবি দলের কোচ জন মিচেল। তিনি কখনো ছেলেকে রাগবি খেলার জন্য চাপ দেননি। ১৯৯৩ সালে ব্রিটেন সফরে অ্যাল ব্ল্যাকসের হয়ে খেলা জন মিচেল ছেলের প্রতিভা স্বাধীনভাবে বিকাশের সুযোগ দিয়েছিলেন।

এক সাক্ষাতকারে জন মিচেল জানান, ‘ড্যারিল নিশ্চিতভাবেই রাগবির পরিবেশে বেড়ে উঠেছে কারণ আমি খেলতাম ও কোচিং করতাম। সে ছোটবেলায় রাগবি ও ফুটবল দুটোই খেলেছে। পরে নর্দার্ন ডিসট্রিক্টসের একজন ডেভেলপমেন্ট অফিসার আমাকে বললেন, তিনি চাইছেন ড্যারিলকে ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়ে তুলতে। আমরা রাজি হই। বারান্দার খেলার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। সেটা ছিল ১২ বলে ১৫ রানের চ্যালেঞ্জ। ছয়টি বল দ্রুত, ছয়টি ধীর, আর সীমানার বাইরে হিট করলে জুটত শাস্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধীরে ধীরে ড্যারিল প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করেছে, খেলাকে ভালোবেসেছে, মজা করেছে। যা অর্জন করেছে, তা সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টা ও মানসিকতার ফল। ড্যারিল ১৫ বছর বয়সে আমাকে বলেছিল, ‘ড্যাড, আমি ক্রিকেটার হতে চাই। আমরা সবসময় আমাদের সন্তানের পছন্দের সমর্থন করেছি। কখনো জোর করিনি বা কোচ হিসেবে হস্তক্ষেপ করি নি। সে নিজেই লক্ষ্য ঠিক করেছে এবং আমরা শতভাগ তার পাশে ছিলাম। এই স্বাধীনতা সম্ভবত আজকের খেলোয়াড় ড্যারিলকে গড়ে তুলেছে।’ড্যারি মিচেল এখন নিউজিল্যান্ড দলের নির্ভরযোগ্য সদস্য হয়ে উঠেছেন।

ড্যারিলের রাগবি ব্যাকগ্রাউন্ড কি ক্রিকেটে সাহায্য করেছে? জন বলেন, ‘সরাসরি হয়তো নয়, তবে অনেকভাবে প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও মানসিকতা দেখার সুযোগ পেয়েছে। জয় ও পরাজয় থেকে শেখার অভিজ্ঞতা তাকে দক্ষ করেছে। শারীরিকভাবে বড়, যা সাহায্য করে, তবে কঠোর পরিশ্রম ও মনোভাবই তাকে আলাদা করেছে।’

২০১৯ সালে ২৭ বছর বয়সে ওয়েলিংটনে ভারতের বিপক্ষে ড্যারিল মিচেলের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল। একই বছর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হ্যামিলটনে টেস্ট অভিষেক। সেই ম্যাচে করেন ৭৩ রান। ২০২১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে হয় ওয়ানডে অভিষেক। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ টেস্ট, ৫৯ ওয়ানডে, ১০২ টি-টোয়েন্টি খেলে নিউজিল্যান্ড দলের নির্ভরযোগ্য সদস্য হয়ে উঠেছেন।

ড্যারিল মিচেল ক্রিকেটে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন যেমন রাগবিতে করেছেন তার বাবা। জন মিচেল শেষে বলেছেন, ‘যখনই তাকে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখি, গর্বিত হই। সে পরিপক্ব, তার ভূমিকা বোঝে, ও পরাজয় সামলে নিতে জানে। পরিবারকে সময় দেয়, গলফ খেলেন, নিজের প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে। এই রুটিন তার জীবনের সঙ্গে মানিয়ে যায় ও উদ্যমী রাখে।’