অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে নথিপত্র যাচাই শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনিয়ম ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমে ইতিমধ্যে বেশ কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি। গতকাল বুধবার এক ব্রিফিংয়ে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। দুদকে আসা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং প্রকল্পসহ বন্দরের বিভিন্ন টেন্ডারে অনিয়ম করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং প্রকল্প-সংক্রান্ত অনুমোদনপত্র, আর্থিক বরাদ্দ, টেন্ডার ও চুক্তির নথিপত্রসহ এস এম মনিরুজ্জামান এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য তলব করা হয়। ইতিমধ্যে বেশকিছু নথিপত্রে দুদকের হাতে এসেছে।
সাবেক এমপি মহারাজের নামে মামলা হচ্ছে : দুদকের অনুসন্ধানে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ ও তার স্ত্রীর নামে ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। শিগগিরই মামলাগুলো দায়ের করা হবে বলে জানান দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।
ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুলসহ ৬ জনের নামে মামলা : দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি ৭১ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ একটি মামলা করা হয়েছে। দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. সজীব আহমেদ মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা যোগসাজশে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সিভিল/ইলেক্ট্রোমেকানিক কাজের নাম করে কোনো ধরনের কাজ না করে ভুয়া কার্যাদেশ, কাজের ভুয়া অগ্রিম বিল আবেদনপত্র, ভুয়া বিল ভাউচার প্রস্তুত করে ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকা ১৬টি চেক ইস্যু করেন। পরে এসব চেকের কিছু অর্থ নগদ উত্তোলন এবং অর্থ স্থানান্তর ও ঋণ সমন্বয় দেখিয়ে আসামিরা আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
নরুল ইসলাম ছাড়া ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অন্য আসামিরা হলেন, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এমডি মেহায়েত উল্যাহ, সাবেক ডিএমডি সৈয়দ আব্দুল আজিজ, বিনিয়োগ ও রিয়েল এস্টেট ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আমীর মোহাম্মদ ইব্রাহীম, সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ আব্দুর রাজ্জাক ও সাবেক হেড অব ইন্টারনাল অডিট কামাল হোসেন হাওলাদার।