প্রকাশক ঐক্যের চিঠি, ৬ দফা

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর আয়োজন ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দিয়েছে ‘প্রকাশক ঐক্য’। গত মঙ্গলবার পাঠানো ওই চিঠিতে মেলার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, স্টল বরাদ্দের নিয়ম এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রকাশক ঐক্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করে তারা এই গঠনমূলক সমালোচনা করছেন। চিঠিতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

স্টল বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ : চিঠির প্রথমেই উল্লেখ করা হয়, প্রকাশক ঐক্যের সঙ্গে বাংলা একাডেমির সমঝোতা অনুযায়ী মেলায় সর্বোচ্চ ৫ ইউনিটের বেশি স্টল না দেওয়ার কথা থাকলেও কিছু প্রতিষ্ঠানকে ৬ ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটিকে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ ও ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ বলে অভিহিত করা হয়।

মেলার পরিবেশ ও নিরাপত্তা প্রশ্নে উদ্বেগ : চিঠিতে মেলার সার্বিক পরিবেশকে ‘অত্যন্ত অব্যবস্থাপনাপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় ১. দুই ম-পের মাঝের সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই; ২. বৃষ্টির কারণে কাদা ও জল জমে চলাচলের পথ দুর্গম হয়ে পড়েছে; ৩. পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় মশা ও দুর্গন্ধে দর্শনার্থী ও প্রকাশকরা বিপাকে পড়ছেন; ৪. টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অনুপস্থিতি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে; ৫. মেলার ভেতরে অনৈতিক কার্যকলাপ ও অসাধু ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৬. রাতে স্টল বন্ধের পর মেলায় অনধিকার প্রবেশের ঘটনা ঘটছে, যা বই ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এই সমস্যাগুলোর আশু সমাধান ও ব্যাখ্যা চেয়েছে প্রকাশক ঐক্য।

প্রকাশক ঐক্যের পক্ষ থেকে আগামী ৫ মার্চের মধ্যে উল্লিখিত সমস্যাগুলোর সমাধান এবং কোনো কোনো প্রকাশককে ৬ ইউনিট বরাদ্দের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, আমরা বাংলা একাডেমির প্রতিপক্ষ নই, বরং সফল আয়োজনের অংশীদার ও গঠনমূলক সমালোচক। মেলার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা জরুরি।

চিঠিতে প্রকাশক ঐক্যের পক্ষ থেকে ১৫ জন বিশিষ্ট প্রকাশক ও মেলা কমিটির সদস্যরা স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মধ্যে আছেন মের্বাহউদীন আহমদ (আহমদ পাবলিশিং হাউজ), এ কে নাসির আহমদ (কাকলী), মিনরুল হক (অনন্যা), মাজহারুল ইসলাম (অনুপ্রকাশ), মহিউদ্দীন আহমদ (ইউপিএল), দীপংকর দাশ (বাতিঘর), জসীম উদ্দিন (কথাপ্রকাশ), মাহাবুব রহমান (আদর্শ) প্রমুখ।