টোলপ্লাজার যানজটেই ভেস্তে  যেতে পারে ৫০ জেলার ঈদ

যানজট যেন ঈদযাত্রার নিত্যসঙ্গী। গত বছর ঈদের আগে ছুটি বাড়িয়ে সেই জট থেকে কিছুটা মুক্তি মিলেছিল। এবারও একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছে সরকার। তা ছাড়া শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধে কারখানাগুলো বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে ভাঙা সড়ক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অবৈধ স্থাপনা, অটোরিকশাসহ অবৈধ যানবাহনে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। তা ছাড়া পদ্মা, মেঘনা, যমুনা সেতুসহ বিভিন্ন টোলপ্লাজায় বাড়তি চাপে যানজটের কবলে পড়তে পারেন অন্তত ৫০ জেলার ঈদযাত্রীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যমুনা সেতু দিয়ে উত্তরবঙ্গের ২১ জেলা, মেঘনা সেতু দিয়ে ১০ থেকে ১২ জেলা এবং পদ্মা সেতু দিয়ে ২১ জেলার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। তা ছাড়া ছোট-বড় অসংখ্য সেতুতে টোল নেওয়া হয়। ঈদ উপলক্ষে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বাড়তি চাপ মোকাবিলার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। তা ছাড়া ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, গুলিস্তান ফ্লাইওভারের টোলপ্লায়ও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এসব সেতুর টোলপ্লাজায়ও অনেক গাড়ি দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। যদিও সেতুগুলোর কর্তৃপক্ষ বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এরই মধ্যে ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ এবং ছুটি বাড়িয়ে চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার সেতুগুলোর টোলপ্লাজার যানজট এড়ানো গেলে ঈদযাত্রার অর্ধেক যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে সড়কের পাশে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ভাঙা স্থান মেরামত, অবৈধ তিন চাকার যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ঈদযাত্রা হতে পারে স্বস্তির।

এদিকে, গত রবিবার সড়ক মেরামত কাজের জন্য মেঘনা সেতুর ঢাকামুখী অংশে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। তা ছাড়া গাড়ির চাপ একটু বাড়লেই দেখা দিচ্ছে যানজট। ঈদের সময় বাড়তি তিন থেকে চারগুণ যানবাহনের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাবেন টোলপ্লাজার কর্মীরা।

প্রায় প্রতি ঈদেই অনেকের ঈদ শেষ হয়ে যায় মেঘনা সেতুর টোলপ্লাজায়। টোল আদায়ে ধীরগতির কারণে মহাসড়কের যানজট সোনারগাঁ অংশ ছাড়িয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। ঈদ সামনে রেখে টোলপ্লাজার বুথসংখ্যা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও তা কতটা কাজে দেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

অন্যদিকে, রাজধানীর গুলিস্তান থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যানবাহনগুলো পুরান ঢাকার বাবু বাজার সেতু হয়ে কেরানীগঞ্জের কদমতলী ও শুভাঢ্যা ধরে আব্দুল্লাহপুর হয়ে ঢাকান্ডমাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচল করে থাকে। ব্যস্ততম মহাসড়কটির কেরানীগঞ্জের কদমতলী ও শুভাঢ্যা অংশে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক যানজট।

ঈদের ছুটিতে বাড়তি চাপ বাড়লে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তের পদ্মা সেতু টোলপ্লাজা ও জেলার সিরাজদীখান উপজেলার অদূরে ধলেশ্বরী সেতুর টোলপ্লাজা এবং কেরানীগঞ্জের বাবুবাজার ব্রিজ এলাকা, কদমতলী, শুভাঢ্যা ও পোস্তগোলা ব্রিজ এলাকায় যানজটের কারণে বিড়ম্বনা আর ভোগান্তি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যানবাহনের মাত্রাতিরিক্ত চাপে যানজট সৃষ্টি হলে টোলপ্লাজা থেকে এক্সপ্রেসওয়েতেও ভোগান্তির ছড়িয়ে পড়ে।

পদ্মা সেতুর সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ জানান, সাধারণত রোজার শেষ দিকে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে এবার টানা ৪৫ দিনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এবার টোল আদায়ে শুধু মোটরসাইকেল পারাপারেই আলাদা তিনটি বুথ থাকবে। ঈদের ছুটির শুরুতেই আলাদা ওই বুথ চালু করা হবে। চাপ মোকাবিলায় বাড়তি ১৪ জন টোল কালেক্টর নেওয়া হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, অতীতের ঈদযাত্রায় যানজটের লম্বা ছবি আছে। যেহেতু লম্বা ছুটি আছে, সরকার চাইলে যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। প্রশাসন যদি সঠিক উপায়ে ছুটি কাজে লাগাতে পারে, তবে যানজটের ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা আছে। বিশেষ করে, ধাপে ধাপে বাড়ি আসা-যাওয়ার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান আগে ছুটি দিয়ে দিলে সড়কে চাপ কমবে। তিনি বলেন, ঈদের আগে দেখা যায় শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করছেন। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আগেভাগে শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে কারখানাগুলো সরকারি মনিটরিং প্রয়োজন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল হক বলেন, বড় উৎসবগুলোয় বিশ্বের সব দেশেই এমন সমস্যা তৈরি হয়। একসঙ্গে অনেক মানুষ সড়কে নেমে এলে সরকারের কোনো ব্যবস্থাপনাই কাজে আসে না। টেকসই চলাচল নিশ্চিত করতে হলে ধাপে ধাপে ট্রেনের দিকে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এ ছাড়া এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। দ্রুতগতির ট্রেনের চলাচল যতটা স্বস্তিদায়ক করতে পারে, তা অন্য কোনোভাবে সম্ভব নয়।

ছুটি বাড়িয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণ

ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে এবারের ঈদে সাত দিন ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন ধরে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি পাওয়ার কথা ছিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। আগামী ১৭ মার্চ আগে থেকেই শবেকদরের ছুটি ছিল। এর পরদিন ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারি এই ছুটির সঙ্গে সমন্ব^য় করে কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটির ব্যবস্থা করলে যানজট নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দক্ষিণাঞ্চলের ঈদযাত্রা : এক্সপ্রেসওয়েতেও যানজটের শঙ্কা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি মামুনুর রশীদ খোকা এবং কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ জানিয়েছেন, দ্রুত গতির জন্য এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হলেও অবৈধ দোকানপাট আর পার্কিংয়ের কারণে সেই এক্সপ্রেসওয়েতেই যানজট তৈরি হচ্ছে। এমনকি আসন্ন ঈদযাত্রায় ঢাকান্ডমাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যানজটের কবলে পড়তে হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার ঘরমুখো যাত্রীদের। এই এক্সপ্রেসওয়েতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া পর্যন্ত অন্তত ছয়টি পয়েন্টে যানজট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া পদ্মা ও ধলেশ্বরী সেতুর টোলপ্লাজার যানজটের আশঙ্কা তো আছেই। এর বাইরে এ রুটে গুলিস্তান ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজায় যানজট সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যানজটের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। এর মধ্যে রয়েছে কেরানীগঞ্জের যত্রতত্র নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশার অবাধ চলাচল, কদমতলী গোল চত্বর মূল সড়কের ওপর নিষিদ্ধ লেগুনা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড, বিভিন্ন পরিবহনের যত্রতত্র পার্কিং ও স্ট্যান্ড এবং সড়ক জুড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ ফুটে দোকানপাট।

অন্যদিকে, শুভাঢ্যা অংশেও রয়েছে ফরিদপুর মাদারীপুর, বরিশাল রুটগামী বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার। এই কাউন্টারগুলোর সামনে তাদের একাধিক বাস দাঁড়িয়ে থাকার কারণে সেখানে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

মো. সালাম নামের এক আইনজীবী বলেন, সারা বছর এ রাস্তায় যানজট থাকে, তবে ঈদের সময় এই অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই দ্রুত এখান থেকে যানবাহনের অবৈধ পার্কিং, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ ও দোকানপাট উচ্ছেদ এবং সড়কে পার্কিং বন্ধ না করলে ঈদুল ফিতরের সময় এবারও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গা সেতু এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত মনিটরিং না করতে পারলে ঈদের যানবাহনের বাড়তি চাপ বাড়বে। এতে পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গা সেতুর অংশেও দেখা দিতে পারে তীব্র যানজটের।

খানাখন্দে ভার ঢাকান্ডসিলেট মহাসড়ক : যানজটে পড়তে পারেন ৩৪ জেলার মানুষ

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি আতাউর রহমান সানী জানিয়েছেন, ঢাকান্ডসিলেট মহাসড়ক দিয়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, ভৈরব, কিশোরগঞ্জসহ ৩৪ জেলার মানুষ চলাচল করেন। এই মহাসড়কের প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকা রূপগঞ্জের অংশে পড়েছে। ঢাকান্ডসিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জ অংশে নিত্যদিনের যানজটে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বছরের পর বছর। তবে ঈদ এলে এই যানজটের মাত্রা বহুগুণে বেড়ে যায়। আসন্ন ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষ মহাসড়কের যানজটে ভোগান্তি পোহাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঢাকান্ডসিলেট মহাসড়ক দিয়ে যেতে-আসতেই দিন পার হয়ে যায় সাধারণ মানুষের। এ ছাড়া মহাসড়কের রূপগঞ্জের অংশের পাঁচ অংশের যানজটের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

রাস্তার সংস্কারকাজ চলমান থাকায় যানবাহন নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারছে না। এতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। অবৈধ বাসস্ট্যান্ড, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামানো, নিয়মভঙ্গ করে গাড়িচালকদের বিপরীত রুটে গাড়ি চলাচল, সড়ক প্রশস্ত কম হওয়া, সড়কে হঠাৎ করে গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়। এ যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। মহাসড়কের যানজটের কারণে রূপসী-কাঞ্চন সড়কেও দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। মহাসড়কের রূপসী বাসস্টেশন, বরপা, বরাব, ভুলতা ও বিশ্বরোড স্টেশনের যানজট প্রতিনিয়ত লেগেই থাকে। ঈদযাত্রায়ও এই পাঁচ স্টেশনে যানজটের শঙ্কা রয়েছে।

অটোরিকশায় আটকে যেতে পারে ঢাকান্ডআরিচা মহাসড়ক

সাভার প্রতিনিধি লোটন আচার্য্য জানিয়েছেন, রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ঢাকান্ডআরিচা মহাসড়ক, আব্দুল্লাহপুর-ডিইপিজেড সড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা সড়কে অটোরিকশা ও ফুটপাতের কারণে পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অটোরিকশার দৌরাত্ম্য এবং ফুটপাতে অবৈধ দখলে ব্যাহত হচ্ছে সড়কে শৃঙ্খলা। আসন্ন ঈদ কেন্দ্র করে এসব সড়কে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকান্ডআরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর, উল্লাইল, গেন্ডা, নবীনগর, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুৎ, বাইপাইল, ডিইপিজেড, বলিভদ্র বাজার, জিরানী এবং আব্দুল্লাহপুর-ডিইপিজেড সড়কের জামগড়া, জিরানী ও আশুলিয়া বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

পথচারীরা জানান, ঢাকান্ডআরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর ও উল্লাইল এবং সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে ফুটপাতের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ যানজটের চিত্র গড়ায় রাত পর্যন্ত। সড়কের ওপরে দোকান বসিয়ে পথচারীদের সৃষ্টি করছে বিড়ম্বনা। কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি সাভারের হেমায়েতপুর ও সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের হকার্স বসিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করছেন। এতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ক্ষমতাবলে হকার্সদের কাছে পথচারীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের পল্লীবিদ্যুৎ, বাইপাইল, ডিইপিজেড ও বলিভদ্র এলাকায় বেশির ভাগ সড়ক হকারদের দখলে। এ ছাড়া সড়ক আইন অমান্য করে মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ অটোরিকশা। সেই অটোরিকশার অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায় এসব সড়কে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ ছাড়া অটোরিকশার দ্রুতগতির কারণে প্রাণহানির মতোও ঘটনা ঘটছে। তবে পথচারী ও স্থানীয়রা অবৈধ ফুটপাত ও রাস্তা দখল এবং অবৈধ অটোরিকশা মহাসড়কে চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তবে এসব নিয়ে নেই প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ।

সাভার হাইওয়ে থানার ইনচার্জ শেখ শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা অটোরিকশা নিয়ে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছি। তবে ফুটপাত ঈদের আগে উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। কিন্তু অটোরিকশায় অভিযান পরিচালনা করলে চালকরা পুলিশের ওপর মব সৃষ্টি করেন।’