যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী বরখাস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি) ক্রিস্টি নোয়েমকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ওকলাহোমার রিপাবলিকান সিনেটর মার্কওয়েন মোলেন। গত বৃহস্পতিবার এ রদবদলের ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, আগামী ৩১ মার্চ থেকে মোলেন এ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তবে এ নিয়োগ কার্যকর হতে হলে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের তীব্র সমালোচনার মুখে নোয়েমকে এ পদ ছাড়তে হলো। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক (রিনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি) নিহত হওয়ার ঘটনায় নোয়েমের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। নোয়েম তাদের ঘরোয়া সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করেছিলেন।

নোয়েমের বিরুদ্ধে তার শীর্ষ উপদেষ্টা কোরি লেভানডফস্কির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রাখার অভিযোগ ওঠে। এ প্রশ্নকে নোয়েম ‘ট্যাবলয়েড ধরনের আবর্জনা’ বলে আখ্যা দেন। এ ব্যাপারে লেভানডফস্কির বক্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া সরকারি বিমানে বিলাসবহুল ভ্রমণ এবং কর্মীদের সঙ্গে অপব্যবহারের রিপোর্টও প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া নোয়েমের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির সংস্থাকে বিজ্ঞাপনের জন্য ২২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটররাও প্রশ্ন তোলেন। এ প্রচারণায় নোয়েমকে ব্যাপকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং স্বাভাবিক দরপত্রের প্রক্রিয়া ছাড়াই রিপাবলিকান দলঘেঁষা দুটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, নোয়েম সীমান্তে অসাধারণ ফলাফলসহ আমাদের জন্য ভালো কাজ করেছেন। নোয়েম এখন থেকে ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ নামক একটি নতুন নিরাপত্তা উদ্যোগের বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করবেন। এ কাঠামো পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবে। নোয়েম প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন এবং তার গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যেমন ব্যাপকভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার, বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের বিষয়টি ক্রমাগত জনসমর্থন হারাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নোয়েমের বিদায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিবাসন নীতি নতুন করে সাজানোর সুযোগ করে দিতে পারে। অভিবাসন নীতি ছিল ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডার অন্যতম প্রধান বিষয়। ক্রিস্টি নোয়েম আগে সাউথ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ছিলেন। তিনি ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সবচেয়ে আলোচিত সদস্যদের একজন হয়ে ওঠেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টগুলোয় নোয়েম অভিবাসীদের বিষয়ে কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন, তাদের বিরুদ্ধে কথিত অপরাধের ঘটনা তুলে ধরতেন এবং অনেক সময় তীব্র রকমের আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিতেন।