ঘরের মাঠ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে ভারত। স্বাগতিক হিসেবে সূর্যকুমারদের ওপর ১৫০ কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপ তো থাকবেই, সেইসঙ্গে থাকবে এই মাঠেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের দুঃসহ স্মৃতি। তবু ফাইনালে ভারতকে এগিয়ে রাখলেও ক্রিকেটের স্বার্থে নিউজিল্যান্ডের জয় চান শোয়েব আখতার।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৬ উইকেটে হেরেছিল রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারত। এবার একই মাঠে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। একটি ক্রিকেট বিষয়ক অনুষ্ঠানে শোয়েব আখতার বলেন, ‘আহমেদাবাদের উইকেট যদি স্পিনারদের সহায়তা করে, তাহলে ১৭৫ থেকে ২০০ রান পর্যন্ত উঠতে পারে। নিরাপদ স্কোর দুইশর বেশি হতে হবে।’
পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা আরও বলেন, ‘ভারত অবশ্যই ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে। আমার মনে হয়, নিউজিল্যান্ড ভারতের সামনে কিছুটা চাপে পড়তে পারে। তবে ভারতের ওপরও ১৫০ কোটির মানুষের চাপ থাকবে। আর এই মাঠেই তারা অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরেছে। সব মিলিয়ে আমি ভারতকেই এগিয়ে রাখছি, কিন্তু ক্রিকেটের স্বার্থে এবার নিউজিল্যান্ডেরও বিশ্বকাপ জেতা উচিত।’
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের এটি হবে চতুর্থ মুখোমুখি লড়াই। আগের তিনবারই জিতেছে নিউজিল্যান্ড। ফলে ফাইনালে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে কিউইরা। তবে কিউইরা লড়াকু স্কোর করতে পারবে কিনা- তা নিয়ে সন্দেহ আছে শোয়েবের, ‘প্রশ্ন হচ্ছে, নিউজিল্যান্ড কি ভারতের বিপক্ষে ২২৫ বা ২৫০ রান করতে পারবে? যদি পারে, তাহলে ভারত বড় চাপের মধ্যে পড়বে।’
পাকিস্তানের সাবেক পেসার উমর গুলও মনে করেন, ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ ভারতের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ বেশ শক্তিশালী। ভারতের বিপক্ষে তারা আত্মবিশ্বাসী থাকবে। বিশেষ করে ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের অভিজ্ঞতা তাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে। এটি দারুণ একটি ফাইনাল হতে যাচ্ছে।’
এদিকে নিউজিল্যান্ডের অল-রাউন্ডার গ্লেন ফিলিপস দুই দেশের জনসংখ্যা ও ক্রিকেট প্রতিভার পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে মানুষের সংখ্যা কম, তাই খেলোয়াড় বাছাইয়ের সুযোগও সীমিত। কিন্তু ভারত থেকে যে পরিমাণ প্রতিভা উঠে আসে, তা অসাধারণ। তারা চাইলে এই বিশ্বকাপে সমান শক্তিশালী তিনটি দল নামাতে পারত।’