আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশে গুম কমিশন যুক্ত হওয়ার ফলে কমিশনের মূল কাজ ব্যাহত হতে পারে। তাই এ আইনটি নিয়ে সরকারকে ভাবতে হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয় সরণিতে সামরিক জাদুঘর মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘সকল নারী ও বালিকার জন্য অধিকার, বিচার ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশনবিষয়ক একটি অর্ডিন্যান্স হয়েছে, যেখানে গুম কমিশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুম কমিশন যুক্ত হওয়ার ফলে মানবাধিকার কমিশনকে গুম কমিশনের তদন্তকাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে। এতে মানবাধিকারের মূল কাজ ব্যাহত হতে পারে। তাই এ আইন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। যদিও সরকারের নীতি হলো গুমকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।’ তিনি বলেন, সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করছে এবং ইতিমধ্যে বেআইনি গ্রেপ্তার ও মামলা-বাণিজ্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ ছাড়া গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নারী কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি নীতিগতভাবে নারী কমিশন গঠনের পক্ষে। তবে, দেশে একের পর এক কমিশন গঠনের ফলে অনেক সময় তাদের দায়িত্বের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিক সমাজের সহযোগিতা কামনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা যাতে ‘বেগমপাড়া’ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন, সে বিষয়ে নাগরিক সমাজকে ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্যও ম্যারেজ ও ডিভোর্স আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া, বাংলাদেশে জাতিসংঘের নারী প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং, জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক আইরিন খান প্রমুখ।