হত্যা মামলার আসামিকে জামিন করিয়ে দেওয়ার নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটরের (সম্প্রতি পদত্যাগকারী) বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের ঘটনা তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিন করিয়ে দেওয়ার জন্য প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে আসামির পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
গত সপ্তাহে সাইমুম রেজা তালুকদার চিফ প্রসিকিউটর বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। গত সোমবার আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় তার পদত্যাগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গতকাল সকালে প্রসিকিউটরদের নিয়ে প্রসিকিউশন শাখায় জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যে মামলার বিষয় নিয়ে এই প্রতিবেদন এসেছে, সেই মামলাটি আমি নিজে কল করেছিলাম। প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। মূলত আমাদের আজকের সকালে বৈঠকটি এই কারণেই হয়েছে। আরও অনেক বিষয় আছে যা অভ্যন্তরীণ, সেগুলো পাবলিকের সামনে বলার কোনো সুযোগ নেই, বলতেও পারব না।’
তিনি বলেন, ‘যে অভিযোগ এসেছে, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না এলেও আমি ব্যক্তিগতভাবে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করব। শুধু এই বিষয়েই নয়, এই পার্টিকুলার ঘটনায় তো তদন্ত করবই। ৫ আগস্ট (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) পরে আমাদের ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার পর সব বিষয় অভ্যন্তরীণ একটি কমিটি গঠন করে তদন্ত করে দেখব। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করা হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার যোগদানের আগের কোনো ঘটনা থাকলেতা অনলাইন মাধ্যমে হোক বা ফরমাল চার্জ হোক, সবকিছুর বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে দেখব। অভিযোগের বিন্দুমাত্র সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করব।’
এ ধরনের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয় কি নাএমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ রকম কোনো বিষয় হলে অবশ্যই আমাদের ট্রাইব্যুনাল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমাদের ইমেজ সংকট হয়। এটা সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আপনাদের কাছে বলেছিলাম, আমার কর্মকালে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে, সাবস্ট্যানটিভ কোনো অভিযোগ পেলে আমি তাকে স্পেয়ার করব না।’
অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রসিকিউটর টিম বসে একটা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এই বিষয়ে আমাদের প্রয়োজনীয় করণীয় কী হওয়া উচিত। কারণ আমি একটা বার্তা দিতে চাই, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমি অতীতের সব কর্মকাণ্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। আর এই প্রসিকিউশনে যারা কাজ করতে চাইবেন, তাদের কাছে পরিষ্কার বার্তা যে, ভবিষ্যতে সুতো পরিমাণ অভিযোগও যদি কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে পাই, তাহলে ধরে নেবেন পরের দিন তিনি আর আমার এখানে নেই।’