খুলনার সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে গত রবিবার রাতে (২৩) এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরের দিন গত সোমবার ভুক্তভোগী নারী তিনজনকে আসামি করে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা করেছেন। তবে এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, বসুপাড়া শতরূপা মোড় এলাকার এক গৃহবধূ মোল্লাবাড়ী এলাকার নিউপথ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের এক কর্মচারী তৌহিদুল ইসলামের কাছে টাকা পাওনা ছিলেন। সেই টাকা চাইতে গেলে তৌহিদুলের সহায়তায় নিরাময় কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম শাহিন ও পংকজ জোরপূর্বক ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। পরে তারা ওই গৃহবধূকে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রেখে চলে যান।
ওসি বলেন, গৃহবধূর পরিবারের কাছ থেকে এ ঘটনার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তালা ভেঙে চতুর্থ তলা থেকে তাকে উদ্ধার করে। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) থেকে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
ওসি জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তৌহিদুল, সাইফুল ইসলাম শাহিন ও পংকজকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছে।
এদিকে নোয়াখালীর হাতিয়ার তমরদ্দি লঞ্চঘাট থেকে ঢাকাগামী ‘এমভি ফারহান-০৪’ লঞ্চের কেবিনে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানা।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) এবং একই ইউনিয়নের জোড়খালী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার দুপুরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা তাকে লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে তুলে দেন। একই সময়ে ওই লঞ্চে ওঠেন সাকিব উদ্দিন ও নুরুজ্জামান মিঠু। লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর তারা কেবিনের দরজায় নক করে। বাবাকে চেনেন বলে পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেল কেনার টাকা নিরাপদে রাখার অনুরোধ করেন। সরল বিশ্বাসে ছাত্রী তা রাখতে রাজি হলে তারা কৌশলে কেবিনে ঢোকেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন কুপ্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় তারা তার গলা ও মুখ চেপে ধরেন। মিঠু মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপর সাকিব দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। চিৎকার করতে চাইলে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে ভোর ৪টার দিকে দুজন আবার কেবিনে ঢুকে হুমকি ও ভয় দেখিয়ে দ্বিতীয় দফায় ধর্ষণ করেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কোতোয়ালি থানার ওসি শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হবে।