মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা টার্মিনাল হাই-অল্টিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) সরানোর পরিকল্পনার মধ্যেই জাপান সাগরে পরপর ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। গত শুক্রবার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপানের কোস্ট গার্ড বাহিনী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী।
উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ বিরল কোনো ঘটনা নয়। কারণ, গত দুই দশক ধরেই জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর ও কোরিয়া প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে পিয়ংইয়ং। পারমাণবিক অস্ত্রের কারণে দেশটি ২০০৬ সাল থেকেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের বাণিজ্য, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হলেও তারা পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়তে নারাজ। জাপানের কোস্ট গার্ড বলেছে, তারা অন্তত একটি প্রজেক্টাইল সমুদ্রে পড়া শনাক্ত করেছে, ওই প্রজেক্টাইলটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে বলেই তাদের অনুমান। এটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পড়েছে বলে সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছের একটি এলাকা থেকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের সমুদ্রের দিকে ছোড়া হয়।
দিনকয়েক আগে থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় সিউল ও ওয়াশিংটনের বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরু হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সামরিক হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার লক্ষ্যে ‘পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক’ এ মহড়া হচ্ছে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার। দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়াকে আলাদা করা অসামরিক অঞ্চলের কাছে ইয়োনচিয়োনে ‘ফ্রিডম শিল্ড’ নামের এ মহড়া হচ্ছে। মহড়ার অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার দেশ দুটির কয়েকশ সেনা ট্যাংক ও সাঁজোয়া যুদ্ধযানসহ নানা সরঞ্জাম নিয়ে নদী পারাপারের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে। যৌথ বাহিনীর কমান্ডার এই মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ে ২৮ হাজারের মতো সৈন্য ও যুদ্ধবিমানের বহর সবসময়ই থাকে। এ ধরনের মহড়া নিয়ে নিয়মিতই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আসছে উত্তর কোরিয়া। তাদের ভাষ্য, এ মহড়াগুলো মূলত পিয়ংইয়ংয়ের ওপর সশস্ত্র আগ্রাসনের ‘ড্রেস রিহার্সাল’। উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিজেদের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ বছর আগে দেশটিতে থাড মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটন সিউলকে জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে থাড। গতকাল দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনিক জুংআং এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। জুংআংকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিউং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাড সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে খুশি নয় সিউল।