ঈদ শপিং পূর্ণতায় আতর টুপির দোকানে ভিড়

এক দিন পরেই ঈদ। এ উৎসব আরও রঙিন করে তুলতে শেষ সময়ের কেনাকাটায় যোগ হয়েছে আতর-টুপি, জায়নামাজ আর তসবিহ। ভিড়ও বেড়েছে এসব দোকানে। তবে অন্যসব জিনিসের মতোই আতর-টুপির বাজারেও পড়েছে বাড়তি দাম নেওয়ার হিড়িক।

ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট, গুলিস্তান, কাকরাইল মসজিদ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, এখানে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন নামিদামি আতর। অস্থায়ী দোকানেও আতর বিক্রি হচ্ছে। তবে বায়তুল মোকাররম মার্কেটের নিচতলায় আতর-টুপির দোকানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি দোকানে সাজানো বাহারি সব টুপি-জায়নামাজ। আতর, আতরদানি, সুরমা, পাঞ্জাবি, তসবিহর আলাদা দোকান রয়েছে।

দোকানিরা বলছেন, আতরের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। দেশি ব্র্যান্ডের আতরের দাম ১০০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এদিকে টুপির বাজারে দখলে নিয়েছে পাকিস্তান ও চীন। কম দামে বৈচিত্র্যময় নকশার কারণে এগুলোর চাহিদা বেশি। এসব টুপি ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্য পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় টুপিরও রয়েছে চাহিদা।

আতরের বাহারি নাম : বর্তমানে সৌরভ ছড়ানো ব্র্যান্ডের আতর পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। ফলে এ সুগন্ধির প্রতি মানুষের আগ্রহও বেড়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে এবারই আতরের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। তাই বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা ভালো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বাজারে সাধারণত জেসমিন, হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা, এক্সকাচি বেলি, সিলভার, চকলেট মাক্সসুলতান, আমির আল কুয়াদিরাজা ওপেন, জান্নাতুল ফেরদৌস, রয়েল, অরেঞ্জ, সফট, লর্ডনিভিয়া মেন, রয়েল ম্যাবরেজজপি, রাসা, আল ফারিসবেস্ট, ফিগো, হাজরে আসওয়াদ নামের আতর বেশি বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর দাম প্রতি এমএল ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

ঢাকার পল্টনে বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে আতর, টুপি, জায়নামাজ ও তসবিহ বিক্রি করেন রাহাত হোসাইন। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, বাজারে খুব ভালো আতর পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদাও বেড়েছে। তবে দামি আতরের তুলনায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকার দিকেই বেশি নজর ক্রেতাদের। বিভিন্ন মডেল ও ব্র্যান্ডভেদে দাম কমবেশি।

এ মার্কেটের ইউসুফ আতর হাউজের মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘রোজার শেষদিকে এসে আতর ও টুপির চাহিদা বেড়ে যায়। গত বছরের তুলনায় এবার আতরের বেচাকেনা ভালো।’ তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১০০ মিলিলিটারের (এমএল) এক বোতল আতরও আছে। উদ নামের এ আতর বাংলাদেশেই তৈরি। তবে এত দামি আতরের তুলনায় ‘মাঝারি’ দামের আতরই বেশি চলে।

বায়তুল মোকাররমের প্রধান ফটকের সামনে অস্থায়ী দোকানে নানান পদের আতর পসরা সাজিয়েছেন মোহাম্মদ মানিক। তিনি জানালেন, রয়্যাল, কদম, ফেরারি এগুলো বেশি চলে। সব মিলির (ছোট) দামই ১০০ থেকে ১২০ টাকা।’

পাকিস্তান ও চীনা টুপিতেই নজর : দুপুর ২টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, পুরুষ ক্রেতার পাশাপাশি মহিলারাও জায়নামাজ, টুপি, আতর কিনছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছে শিশুরাও। দোকানিরা জানিয়েছেন, দেশি টুপি ছাড়াও পাকিস্তান ও চীনের তৈরি টুপি বিক্রি হচ্ছে বেশি। কম দামে বৈচিত্র্যময় নকশার কারণে এগুলোর চাহিদা বেশি। এসব টুপি ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন জাতের হাতে বানানো টুপি ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া তুরস্ক, ভারত, সৌদি আরব, কাতার, মালয়েশিয়া থেকেও টুপি আসে। নকশা, কাপড়ভেদে ৫০ থেকে ১০ হাজার টাকা দামের টুপিও পাওয়া যায়। এর মধ্যে চীনের ওয়ানি ৬৫০, ভারতের গুজরাটি ২৫০ থেকে ৩০০, সিডনি ৪০০, পাঠান ৪৫০ এবং ছোট পুঁতির সঙ্গে সোনালি কাজ করা প্রতিটি টুপি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে। নেটের তৈরি চীনা টুপি ১৫০ ও তুর্কির টুপি ৫০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন দোকানিরা।

বৈচিত্র্যময় নকশার জায়নামাজও বেশ বিক্রি হচ্ছে। সুতি, মখমল, সিলিকন, পশমিসহ বিভিন্ন রকম জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে মার্কেটে। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, কাশ্মীর, বেলজিয়াম, চীন, সৌদি আরব ও কাতারের জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে। দাম পড়ছে ১৫০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বায়তুল মোকাররম মসজিদের ক্যাপ হাউজ মালিক রজব আলী বলেন, ‘আগে ২০ টাকা দামের টুপি বেশি চলত, এখন দাম বাড়তি। ১০০ থেকে ১৫০ টাকার টুপি কম চলে। ৮০-১০০ টাকা দামের টুপি বেশি চলে। তবে এ মার্কেটের অধিকাংশ টুপি ভারত, পাকিস্তান ও তুরস্ক থেকে আসে।’

কাঠ, প্লাস্টিক, মুক্তা, পাথর, হাতির দাঁত, হরিণের শিং, ক্রিস্টালসহ বিভিন্ন উপাদানে তৈরি তসবিহ পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। ২৫ ঘুঁটি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০০ ঘুঁটির তসবিহও দেখা গেছে। তবে ডিজিটাল তসবিহরও কদর বেড়েছে; দাম ৫০ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে।