কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে বাস–ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর সূত্রে রবিবার (২২ মার্চ) তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
নিহতদের মধ্যে যশোর জেলার পাঁচজন। তারা হলেন লাইজু আক্তার (২৬), তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩), চৌগাছার সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও কোহিনূর বেগম (৫৫)।
নোয়াখালীর দুজন নিহত হয়েছেন সোনাইমুড়ির বাবুল চৌধুরী (৫৫) এবং ফাজিলপুরের নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫)। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চাঁদপুরের তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদহের জুহাদ বিশ্বাস (২৪), মাগুরার ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার সোহেল রানা (২৫) এবং লক্ষ্মীপুরের সাঈদা (৯)।
শনিবার রাত প্রায় পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত ১২ জন বাসযাত্রী নিহত হন এবং আহত হন আরও ১০ থেকে ১৫ জন।
দুর্ঘটনার পর রবিবার সকাল আটটার দিকে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে সরিয়ে নেওয়া হয়। বেলা ১১টার পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রেলক্রসিংয়ের দুই পাশের বেরিয়ার অক্ষত রয়েছে। ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে বাসের ভাঙা কাচ। রেললাইনের পাশে বাসের দুটি চাকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কাছেই রেলের কর্মীদের একটি কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল।
দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট গেটম্যান পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রেলওয়ের দুই গেটম্যান—মেহেদি হাসান ও হেলাল উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিভাগীয় ও জোনাল—দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গেটম্যান গেট না ফেলায় বাসটি রেললাইনে উঠে যায়। এ সময় ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।
তবে ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, বাসচালকের ভুলের কারণেও দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। আহতদের মধ্যে ১৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন, আর পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অজয় ভৌমিক জানান, নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, রেলগেটের দায়িত্বে থাকা কর্মীর অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে আহত যাত্রীরা জানান, বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুর যাচ্ছিল এবং ঢাকাগামী একটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।