জন্মদিনে সাকিবকে যে বার্তা দিলেন প্রধান নির্বাচক বাশার

৩৯তম জন্মদিনের কেকটা সাকিব আল হাসান কেটেছেন লন্ডনে। সেখানে তাকে কেক খাইয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আসিফ আকবর। কিছুদিন আগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও, সাকিবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘আমরা চাই, যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সে যেন বাংলাদেশে দ্রুত ফিরে আসতে পারে’। বিসিবিও জানিয়েছে সাকিবকে জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই অলরাউন্ডারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার এবং বিসিবি, দুই তরফের উদ্যোগই স্পষ্ট। তবে কবে নাগাদ সাকিব ফিরতে পারেন, ফিরলেও সেটা কত দিনের জন্য এমন অনেক প্রশ্নই উঁকি দিচ্ছে নানান মহলে। জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক পদে সদ্য নিয়োগ পেয়েছেন হাবিবুল বাশার, আনুষ্ঠানিক ভাবে তার চুক্তির মেয়াদ শুরু হবে ১ এপ্রিল থেকে। গণমাধ্যমকে হাবিবুল জানিয়েছেন, সাকিবকে একটা সিরিজ নয় বরং ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলে চান তিনি।

প্রধান নির্বাচক হিসেবে কার্যক্রম এখনো শুরু করেননি হাবিবুল। তবে গেম ডেভলাপমেন্ট বিভাগের সঙ্গে এখনো তার সম্পৃক্ততা আছে। ঈদের ছুটির পর দাপ্তরিক কাজে বিসিবি কার্যালয়ে এসে সাবেক এই অধিনায়ক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘সাকিব ঠিক কতখানি ক্রিকেটের মধ্যে আছে, তা নিয়ে আমিও নিশ্চিত নই। সাকিব কাল এসে পরশু খেলে ফেলবে না। ওর প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। এটি কোনো ইমোশনাল জায়গা না। ও যখন ফিরবে, তখন যেন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই ফেরে।‘

প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট বলতে সবশেষ আইএলটি২০তে খেলেছেন সাকিব,এর আগে খেলেছেন টি১০। ৫০ ওভারের ম্যাচ বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ সাকিব খেলেননা বছর দেড়েকের বেশি হয়, ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ নিশ্চিতের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের জন্য এই বছরটা তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরকম সময়ে স্রেফ আনুষ্ঠানিক বিদায়ের মঞ্চ হিসেবে জাতীয় দলে সাকিবের ক্ষনিকের উপস্থিতি দেখতে চান না হাবিবুল, ‘সাকিবের সার্ভিস নিতে পারলে দল অবশ্যই উপকৃত হবে। আমি চাই সে লম্বা সময়ের জন্য আসুক। আমার মনে হয় সাকিবের আরও দুই বছর খেলার সামর্থ্য আছে। আমাদের পরিকল্পনা এমন হওয়া উচিত যেন সে অন্তত ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলে যেতে পারে।' তবে এপ্রিলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেই সাকিবকে জাতীয় দলে ফিরতে দেখার ব্যপারে খুব একটা আশাবাদী নন হাবিবুল, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজের বেশি সময় নেই। সাকিব ক্রিকেটের মধ্যে কতটুকু আছে, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। আমি সাকিবকে যতটুকু চিনি, সে কাল আসবে আর পরশু মাঠে নামবে—ব্যাপারটা এমন না। তার প্রস্তুতির দরকার আছে।'

সাকিব আওয়ামী লীগের হয়ে ১২তম সংসদ নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন, যে নির্বাচন ছিল অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে গেলে ১২তম সংসদে গঠন করা সরকারের পতন হয়, যার ফলে সাংসদ পদ হারান সাকিব। এরপর তার বিরুদ্ধে চেক প্রতারণা, অবৈধ সম্পদ অর্জন, দূর্নীতি, শেয়ারবাজার কেলেংকারী সহ খুনের মামলাও দায়ের হয়েছে।