মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের সাত হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

তিন বছর আগে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। তবুও চলেছে টিজি মাল্টি স্পেশালাইজড হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কাই করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ৩০ শয্যার এই হাসপাতালে ৯ জন ডাক্তার নিয়োগের বিধান থাকলেও কোনো ডাক্তারের নিয়োগপত্র এবং কর্তব্যরত কোনো ডাক্তার পায়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুধু তাই নয়; কর্তব্যরত নার্স এবং নার্সদের কোনো নিয়োগপত্র পায়নি। পায়নি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে এনআইসিইউ কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের প্রমাণও।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কলেজ গেটের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের এই হাসপাতালে পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নানা অসংগতি পেয়ে পরিদর্শন শেষে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শন টিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হাসপাতালে পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন এবং নোংরা। যা ভর্তি রোগীদের মধ্যে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করে। অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশ অপরিষ্কার, যা রোগীদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করে। এনআইসিইউ পরিবেশও অপরিষ্কার এবং যন্ত্রপাতি অপ্রতুল। যা চিকিৎসাসেবার পরিপন্থী।

শুধু এই একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এই মুক্তিযোদ্ধা ভবনের আরও ছয়টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে নানা অসংগতি পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল সাতটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে দুটি বন্ধ, দুটি আংশিক বন্ধ এবং তিনটিকে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বন্ধ করে দেওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানটি হলো প্রাইম ব্লাড ব্যাংক।

আংশিক বন্ধ করে দেওয়া প্রতিষ্ঠান দুটি হলো রয়েল মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং প্রাইম অর্থোপেডিক ও জেনারেল হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। রয়েল মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কর্তব্যরত ৩ জন চিকিৎসক, ৬ জন নার্স, ল্যাবরেটরি ও রেডিওলজি কনসালট্যান্ট এবং বৈধ মালিককে আগামী ৬ এপ্রিল পরিচালক হাসপাতালের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সাক্ষাৎ করতে বলা হয়েছে।

প্রাইম অর্থোপেডিক ও জেনারেল হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সব ধরনের আইসিইউ, এনআইসিইউ, ইনডোরে রোগী ভর্তি এবং অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধনপূর্বক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে। পরিদর্শন টিম পুনরায় পরিদর্শন শেষে কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে প্রতীয়মান হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

পরিদর্শনকালে যমুনা হাসপাতাল, ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রেডিয়াম ব্লাড ব্যাংক অ্যান্ড টিসি এই তিন প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে। এর মধ্যে যমুনা হাসপাতালের আইসিইউ, এনআইসিইউ ও ইনডোর রোগী ভর্তি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন চার রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে রাজধানীর আসাদগেট থেকে শ্যামলী রিং রোড এলাকার প্রতিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করা হবে। গত ২৩ মার্চ বিকেলে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে নানা অসংগতি পেয়ে তিনি ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সিলগালা করার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, এই এলাকায় বেশ কয়েকটি বড় সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এক শ্রেণির দালাল সরকারি হাসপাতালের রোগী বাগিয়ে এসব ভুঁইফোর প্রতিষ্ঠানে এনে রোগীদের জিম্মি করে সেবার নামে প্রতারিত করে।

এই এলাকায় উল্লেখযোগ্য বড় হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনাইসিভিডি), জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট এবং হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুর্নবাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল), ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইওএইচ), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতাল।

কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন : কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন গত শনিবার দুপুরে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগী, তাদের স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সরেজমিনে সবকিছু দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে প্রথমেই তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রান্নাঘরে গিয়ে ঈদ উপলক্ষে রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত হন। পরে একে একে মহিলা ওয়ার্ড, শিশু ওয়ার্ড, পুরুষ ওয়ার্ড ও প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে ডাক্তার ও নার্সদের সেবার মান, খাবারের মান ও থাকার বিছানায় ছারপোকা, তেলাপোকা ও মশার উপদ্রব আছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং চিকিৎসক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন।