রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে ঈদ উদযাপন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। এরপর বেলা ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতাসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় বেলা ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় শেষ হয়। প্রায় তিন যুগ পর ঐতিহাসিক এ বাড়িতে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় কোনো নেতা এসেছেন। তার সঙ্গে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য অনুষ্ঠানে যোগ দেন যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, ভুটানের রাষ্ট্রদূত-হাইকমিশনার ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসেন ইউনিসেফ ও ইউএন ওমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের গভীরতার কথা মনে করিয়ে দেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিল আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক শক্তি। সনদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের সব বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন এবং এর বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক দল আদালতে যাবে না। কিন্তু সংসদের শুরুতেই এসব অঙ্গীকার উপেক্ষিত হচ্ছে।
সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ ও গণভোটকে গুরুত্ব না দেওয়ায় জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, গণভোটে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ সার্বভৌম শক্তি, যা সংবিধানেও স্বীকৃত। সে ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে গণভোটের ফলাফলের সংঘাত তৈরি হলে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক।
এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয়, মহানগর নেতা ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের এমপি, এমপি ও মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থী, এনসিপিসহ জোটসঙ্গী বিভিন্ন সমমনা দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে নিজের সংসদীয় আসন ঢাকা-১৫ মিরপুরের ৬০ ফিট রাস্তাসংলগ্ন মনিপুর গার্লস হাই স্কুল মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার সকাল ৮টায় নামাজ আদায় শেষে তিনি সেখানে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এদিকে, ঈদের পরদিন নিজের জন্মস্থান সিলেট সফরে যান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত রবিবার সকালে তিনি সিলেটে পৌঁছান। পরে সিলেট সার্কিট হাউজে বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ওইদিন বিকেলে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে নিজ এলাকার স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় নির্বাচনে নানা অনিয়ম, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়া, দেশের সংকট ও ফ্যাসিবাদী কাঠামো নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য দেন তিনি।