শিশুদের শিক্ষা-স্বাস্থ্যে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান ডা. জুবাইদার

‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব’ এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে উন্নত বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। গতকাল বুধবার হোয়াইট হাউজে মার্কিন ফার্স্ট লেডির আয়োজনে সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনেও অংশ নেন জুবাইদা রহমান।

সামিটে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের জীবন বিকাশের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হয়। আজ আমরা তাদের যে যতœ করি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি, তাই আগামী দিনে জাতিকে গড়ে তোলে। বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিএনপি সরকার কাজ করছে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ওয়ার্কিং সেশনে জুবাইদা রহমান শিশুদের উন্নয়নে বৈশ্বিক অঙ্গীকারে বিশ্বনেতা ও অংশীদারদের একত্র করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ তার শিশুদের যতœ, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল।’

বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি আমার দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এখানে এসেছি। আমার স্বামী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, আমাদের সদ্যনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ম্যানডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সরকার ইতিমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো উদ্যোগ চালু করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে শক্তিশালী করবে এবং শিশুদের নিরাপদ ও যতœশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠাও নিশ্চিত করবে।’

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা প্রসঙ্গে জুবাইদা রহমান জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কথা বলেন। তিনি এ সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং সুরভীর সঙ্গে আমার কাজ শিক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের প্রসারে আমার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার ডিজিটাল যুগে উন্নতি করার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করছে। আমাদের সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ করছে, শিক্ষণ উপকরণ হালনাগাদ করছে, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু করছে। শ্রেণিকক্ষগুলোতে মাল্টিমিডিয়া বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা দলবদ্ধ কাজ, সৃজনশীলতা এবং আদর্শ স্থাপনে উৎসাহিত করছে।’

জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রযুক্তি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রযুক্তি শহুরে ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা এ সরঞ্জামগুলোর নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে শিশুরা একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে ওঠে।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার আমলে নারীর ক্ষমতায়নে ‘মাইলফলক’ সৃষ্টি হয়েছিল বলে মন্তব্য করে তার পুত্রবধূ জুবাইদা বলেন, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নারী অধিকারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমাদের সরকার স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বেসরকারি খাত ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর প্রসারিত করতে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন করতে এবং সবার জন্য শিক্ষার মান উন্নত করতে চাই।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত চার্লস হার্ডারের সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানের বৈঠক : সামিটের ফাঁকে জুবাইদা রহমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়ন, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে টেকসই অগ্রগতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

সম্মেলনে যোগ দিতে গত ২২ মার্চ ঢাকা ছাড়েন জুবাইদা রহমান। সম্মেলনে তিনি চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সঙ্গে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, অর্থপোডিক সার্জন শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং আইনজীবী মেহনাজ মান্নান। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, ডেপুটি চিফ অব মিশন ডি. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তার আমন্ত্রণেই জুবাইদা রহমান দুই দিনের এ সম্মেলনে অংশ নেন। চল্লিশটির বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি এবং রাষ্ট্র নেতাদের স্ত্রীরা অংশ নেন এ সম্মেলনে।

গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটের পাশাপাশি মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উপস্থাপন করা হয়। জুবাইদা রহমান প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।