অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। দেশের অষ্টাদশ অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তিনি। গতকাল বুধবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ প্রদান করলেন। এ নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) ২০২০- ২০২১, ২০২১- ২০২২ ও ২০২২- ২০২৩ মেয়াদে তিনবারের সম্পাদক ছিলেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কর্তৃক গঠিত আইনগত সহায়তা সেলের টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে আসাদুজ্জামান অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ করে করে বিএনপির মনোনয়নে ঝিনাইদহের একটি সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এখন তিনি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৭০ সালের ১৯ নভেম্বর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ১৯৯৩ সালে আইনে স্নাতক ও ১৯৯৪ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ১৯৯৫ সালের এপ্রিলে তিনি আইনজীবী হিসেবে বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের লিংকনস ইন সোসাইটি থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ সনদপ্রাপ্ত হন। রুহুল কুদ্দুস কাজল ১৯৯৬ সালের ৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০৮ সালের ১২ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তাকে কূটনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে যুক্তরাজ্যে পাঠায় বিএনপি সরকার। সেখানে ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে সেকেন্ড সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে দেশে ফিরে আইন পেশায় যোগ দেন।