আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে দেওয়ার ঘটনাকে ফুটবল ইতিহাসের "সবচেয়ে জঘন্য এবং অন্যায় প্রশাসনিক ডাকাতি" হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সেনেগাল। মাঠের লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেও টেবিলের সিদ্ধান্তে শিরোপা হারানোর প্রতিবাদে এবার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে মহাযুদ্ধ বা ‘ক্রুসেড’-এর ঘোষণা দিয়েছে সেনেগালিজ ফুটবল ফেডারেশন।
প্যারিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনেগালের লিগ্যাল টিমের অন্যতম সদস্য ও প্রখ্যাত আইনজীবী হুয়ান দে দিওস ক্রেসপো পেরেজ এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'এই সিদ্ধান্ত ফুটবলের মৌলিক নিয়ম এবং ‘রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত’—এই নীতিকে সরাসরি লঙ্ঘন করে। যদি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত সেনেগালের বিপক্ষে রায় দেয়, তবে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নও হয়তো ফুটবল মাঠের বদলে কোনো ল-ফার্মের ডেস্কে নির্ধারিত হবে।"
সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট আবদুলায়ে ফল অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, "আমরা এই প্রশাসনিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। আমরা এই নিয়তিকে মেনে নিতে অস্বীকার করছি।"
মজার বিষয় হলো, সাংবাদিকরা যখন প্রশ্ন করেন আগামী শনিবার প্যারিসের স্তাদ দে ফ্রান্সে পেরুর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে তারা ভক্তদের সামনে ট্রফি প্রদর্শন করবেন কি না, তখন আবদুলায়ে ফল রহস্যময় হাসিতে উত্তর দেন, '২৮ মার্চ স্তাদ দে ফ্রান্সে দেখা হবে।' তাঁর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা এখনো নিজেদেরই মহাদেশের বৈধ চ্যাম্পিয়ন মনে করছেন।
সেনেগালের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা গত বুধবারই সিএএসে আপিল করেছেন। সাধারণত এই ধরণের মামলার রায় আসতে ৯ থেকে ১২ মাস সময় লাগে, তবে সেনেগাল এই প্রক্রিয়াটিকে দুই মাসের মধ্যে শেষ করার দাবি জানিয়েছে। তাদের প্রধান যুক্তি হলো—কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল কেন সেনেগালের শিরোপা বাতিল করল, তার কোনো সঠিক লিখিত ব্যাখ্যা এখনো দেয়নি।
পাশাপাশি সেনেগাল সরকার এই ঘটনার পেছনে সিএএফ-এর ভেতরে ‘দুর্নীতির’ সন্দেহ করছে। তাদের দাবি, ২০৩০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে মরক্কো বর্তমানে ফুটবল রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব খাটাচ্ছে। এই প্রভাবের কারণেই মাঠের হারকে তারা টেবিলে বসে জয়ে রূপান্তর করেছে।
গত ১৮ জানুয়ারি রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মরক্কোর পক্ষে একটি বিতর্কিত পেনাল্টি দেওয়ায় সেনেগালের খেলোয়াড়রা প্রতিবাদে মাঠ ছাড়েন। তবে ১৫ মিনিট পর তারা ফিরে এসে সেই পেনাল্টি সেভ করেন এবং অতিরিক্ত সময়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয়ী হন। সিএএফ-এর ডিসিপ্লিনারি বোর্ড পরে জানায়, মাঠ ছাড়ার কারণে সেনেগাল ম্যাচটি ‘ওয়াকওভার’ দিয়েছে এবং মরক্কোকে ৩-০ গোলে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।