নিরাপত্তার বিনিময়ে দনবাস ছাড়ার শর্ত!

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার বিনিময়ে পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার শর্ত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বেশি মনোযোগী। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটাতে চাচ্ছেন। এজন্য তিনি ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার পরবর্তী যেকোনো পদক্ষেপের ওপর নিশ্চিতভাবে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব আছে। আমার মতে, দুর্ভাগ্যবশত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো ইউক্রেনের ওপর বেশি চাপ দেওয়ার কৌশলই বেছে নিচ্ছেন।’

যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে চলতি বছর আবুধাবি ও জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে তিন দফা উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। সেসব বৈঠকেও বরাবরের মতো ইউক্রেনের নেতা বলেছেন, কোনো শান্তিচুক্তি হওয়ার পর রাশিয়া যাতে ভবিষ্যতে আবার যুদ্ধ শুরু করতে না পারে, সেজন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে বলে জানান জেলেনস্কি। প্রথমত, ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে অস্ত্র ক্রয়ে কে অর্থায়ন করবে? দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে রাশিয়ার কোনো আগ্রাসনের মুখে মিত্ররা ঠিক কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে?

জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেন দনবাস থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে রাজি হলে তবেই যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি চূড়ান্ত করবে।’

দুবাইয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে জেলেনস্কি সরাসরি অংশ নেননি। তবে মার্কিন অবস্থানের ‘সূক্ষ্ম দিকগুলো’ তিনি ভালোভাবেই বোঝেন বলে জানিয়েছেন।

এর আগে গত জানুয়ারিতে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা-সংক্রান্ত একটি দলিল শতভাগ প্রস্তুত। এখন শুধু স্বাক্ষরের অপেক্ষা। তবে গত সপ্তাহে মায়ামিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর গত মঙ্গলবার তিনি বলেন, এ বিষয়ে আরও কাজ বাকি আছে। জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার প্রত্যাশা, শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়লে ওয়াশিংটন আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে এবং একসময় মধ্যস্থতার টেবিল থেকে সরে যাবে। এমন একটি ঝুঁকি আসলেই আছে। ইরান সংকটের কারণে চলতি মাসে নির্ধারিত চতুর্থ দফার ত্রিপক্ষীয় আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, সীমানা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধান করে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর একমাত্র পথ হলো ট্রাম্প, পুতিন এবং তার নিজের একটি শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে বসা।