যশোর সদরের দাইতলা এলাকায় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি চলন্ত বাসে আগুন লেগে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে যশোর-নড়াইল মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। শুরুতেই চালক বুঝতে পারায় যাত্রীরা দ্রুত বাস থেকে নেমে ভাগ্যক্রমে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। অন্যদিকে গতকাল দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর সিলোনিয়া এলাকায় বালুভর্তি ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বাসে আগুন লাগার ঘটনায় স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, যশোর থেকে ঢাকাগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাস যাত্রা শুরুর আগেই গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ শনাক্ত হয়। পরে তা মেরামত করে বাসটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে দাইতলা এলাকায় পৌঁছানোর পর আবার পাইপলাইনে সমস্যা দেখা দিলে মুহূর্তের মধ্যেই বাসটিতে আগুন ধরে যায়।
আগুন দ্রুত বাসের ভেতরে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে দরজা ও জানালা দিয়ে নেমে পড়েন। এতে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চোখের পলকেই বাসটি দাউদাউ করে জ¦লতে শুরু করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই বাসটির বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। অগ্নিকা-ের কারণে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
যশোর ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মুজিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
স্থানীয় চাঁদপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকা-ের খবরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। যাত্রীরা দ্রুত নেমে যাওয়ায় প্রাণহানি ঘটেনি। দ্রুত সময় ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ফেনীতে ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা আহত ২০ : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর সিলোনিয়া এলাকায় বালুভর্তি ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের সিলোনিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা দিদার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সিলোনিয়া এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা বালুভর্তি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের চালক, হেলপারসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর আহতদের মধ্যে ৪ জন ফেনী শহরের রয়েল হাসপাতালে এবং ৪ জন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। অন্যরা আশপাশের ফার্মেসি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে নোয়াখালীর বাসিন্দা মো. আরিফ (৩৭), তার স্ত্রী মিনু (২৫) ও সোহাগের (৪৮) নাম জানা গেছে। এছাড়া আরও কয়েকজন চিকিৎসা নিলেও তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ফেনী রয়েল হাসপাতালের অভ্যর্থনা বিভাগে দায়িত্বরত জান্নাত বলেন, দুর্ঘটনায় চারজন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে একজনের নাম সোহাগ, অন্যরা নাম-পরিচয় উল্লেখ না করেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের সার্জেন্ট কাজল কান্তি নাথ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করেন। আহতদের বেশিরভাগই সামান্য আঘাত পেয়েছেন।
তিনি জানান, তুলনামূলক যারা বেশি আহত হয়েছেন তারাও চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।