পদ্মায় বাসডুবি

চতুর্থ দিনে পাওয়া যায়নি কোনো লাশ উদ্ধার অভিযান চলবে

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় চতুর্থ দিনের মতো যৌথ উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘাটের পন্টুন অন্যত্র সরানোর পর উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্ধার অভিযানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলের সদস্যরা অংশ নেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান শেষে নতুন করে আর কোনো লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গত বুধবার বিকেলে বাস দুর্ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রিপন নামের এক ব্যক্তির সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আজ রবিবারও চলবে উদ্ধার অভিযান।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা সন্ধ্যা ৬টার দিকে বলেন, ‘উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলমান। সরকারের প্রতিটি বিভাগের ওপর মহল থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অভিযান কখন সমাপ্ত হবে, বলতে পারছি না। তবে আজকের মতো সন্ধ্যার পর অভিযান স্থগিত রাখা হবে। আবার কাল রবিবার সকাল থেকে আমরা ঘাটে অবস্থান করব।’

এদিকে বাস দুর্ঘটনায় জেলা প্রশাসন থেকে পাঁচ সদস্য ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আজ (গতকাল) দুপুরে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির পাঁচ সদস্য দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও মূলত দুর্ঘটনার পর থেকে আমরা তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এখানে প্রত্যক্ষদর্শীসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ফেরি ব্যবস্থাপনাসহ আধুনিকায়নে যে যে বিষয় আছে, আমরা সেসব বিষয়ও পর্যবেক্ষণ করছি।’