খামারবাড়িতে আউটসোর্সিং কর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি

আট মাসের বকেয়া বেতন এবং চাকরি পুনর্বহাল দাবিতে রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) আওতাধীন বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারের আউটসোর্সিং কর্মীরা। তাদের অনেকেই ডিএইর উপজেলাপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের জন্য নিয়োজিত গাড়িচালক।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর খামারবাড়ির সামনে সারা দেশ থেকে আসা দুই শতাধিক গাড়িচালক তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। পরে তারা ডিএইর পরিচালক প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেন। চাকরি স্থায়ী না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা মো. মোশাহেদ আলী জানান, তাদের মধ্যে ২০১২ সালে ও ২০১৮ এএসডিপি ও উপজেলাপর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণ এবং ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের অধীনে নিয়োগ পান। দুই ধাপে জাহান এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে তার মতো আউটসোর্সিং হিসেবে আড়াই শতাধিক গাড়িচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। একেকজনের মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয় ১৭ হাজার ১২০ টাকা ও ওভারটাইম হিসেবে ৮ হাজার টাকা। পরে প্রকল্প শেষ হলে গাড়িগুলোয় রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হলেও চালকদের আউটসোর্সিংয়েই রাখা হয়। কথা অনুযায়ী চালকদের পরে আর রাজস্ব খাতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর থেকে কেউই আর বেতন পাননি। অথচ সবাই নিয়মিত ডিউটি করছেন।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা আবদুর রাজ্জাক আকন্দ জানান, তাদের নিয়োগ দেওয়ার সময় ১৫০ জন চালকের কাজ থেকে ২৬ হাজার ও ১০৭ জনের কাছ থেকে ৪৬ হাজার টাকা করে জামানত নেওয়া হয়েছিল। এক বছরের চুক্তি ছিল এবং বছর বছর সেই চুক্তি নবায়ন করা হতো। সে হিসেবে ১৫০ জনের ২০২৫ সালের নভেম্বরে ও ১০৭ জনের চলতি বছরের জানুয়ারিতে চাকরিতে নবায়ন করার চুক্তি থাকলেও তা করা হয়নি। তা ছাড়া প্রায় আট মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

জামালপুর থেকে আসা মো. ফারুক হোসেন জানান, তার দুই মেয়ে। একজন কলেজে পড়ে। তিনি ছয় মাস ধরে বেতন না পেয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্য গাড়িচালক মো. মানিক মিয়া জানান, বেতন না পেয়ে সংসারের খরচ বহন করতে না পেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চান মিয়া নামের এক চালক আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের চাকরি স্থায়ী না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’