ঋণ আদায়ে ১০ হাজার মামলা  একীভূত হচ্ছে ৭৮০ শাখা

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪ এএম

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পুনর্গঠন কার্যক্রমে অগ্রগতি হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকটি এরই মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মামলা করেছে। আরও কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় ব্যাংকটির ৭৮০টি শাখা এবং ১ হাজার ৫০০টি বিজনেস ইউনিট একীভূত ও যৌক্তিকীকরণের কাজ চলছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক রেজ্যুলেশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) এক সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ঋণ আদায়, পুনর্গঠন ও সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, মানবসম্পদ সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং আইটি ও অপারেশনাল ইন্টিগ্রেশনের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দীকি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রায় ১০ হাজার মামলা করা হয়েছে। আরও কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ব্যাংকগুলোর সাবেক মালিকদের সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মও ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সভায় জানানো হয়, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় খেলাপি ঋণ আদায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি এক্সিট পলিসি ও অল্টারনেটিভ ডিসপিউট রেজ্যুলেশনের (এডিআর) মতো সমঝোতাভিত্তিক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দ্রুত ঋণ আদায় ও ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, শুধু মামলা করলেই খেলাপি ঋণ আদায় হবে না; দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধার এবং ঋণগ্রহীতাদের প্রকৃত সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা না গেলে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ওপর আমানতকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরবে না।

অর্থনীতিবিদ মাশরুর রেজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খেলাপি আদায়ে ১০ হাজার মামলা করা হয়েছে যা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু মামলার সংখ্যা দিয়ে পুনর্গঠন কার্যক্রমের সফলতা বিচার করা যাবে না। এসব মামলার বিপরীতে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আদায় করা সম্ভব হলো, কতগুলো মামলা নিষ্পত্তি হলো এবং ব্যাংকের আর্থিক অবস্থায় এর কী ধরনের প্রভাব পড়ল, সেটিই হবে মূল বিষয়।

তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি ঋণ পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। 

গত ছয় মাসে ব্যাংকটির পুনর্গঠন কার্যক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই থেকে ব্যাংকটিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম, সুইফট ও আরএমএসহ আইটি অবকাঠামো একীভূত করার কাজ এগিয়ে চলছে। আমানতকারীরা যাতে পাঁচটি ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে নিজেদের আমানতের অর্থ তুলতে পারেন, সে জন্য একটি অভিন্ন ইন্টারফেস চালুর কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে শাখা ও বিজনেস ইউনিট একীভূতকরণের কাজও চলছে। শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ৭৮০টি শাখা এবং ১ হাজার ৫০০টি বিজনেস ইউনিটের মার্জার ও রেশনালাইজেশন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন, ঋণ আদায়, মামলা নিষ্পত্তি, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শাখা ও বিজনেস ইউনিট একীভূতকরণ এবং প্রযুক্তিগত ইন্টিগ্রেশনের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করছে বিআরডি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির সুশাসন ও পরিচালন দক্ষতা বাড়বে, পরিচালন ব্যয় কমবে এবং আটকে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে পুনঃপ্রবাহিত করা সম্ভব হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত