সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ নীতিমালা ২০২৫ স্থগিত চান সারের ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা। তাদের দাবি এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হলে দেশের সার সরবরাহ পরিস্থিতিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে। যে কারণে এই নীতিমালা স্থগিত করে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে আলোচনা করে এটিকে যুগোপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী বর্তমানে সারা দেশে সারের ডিলারশিপ প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এই নীতিমালা পুরো বাস্তবায়ন করা হলে খুচরা বিক্রেতারা আর সার বিক্রি করতে পারবেন না। একইসঙ্গে একজন ডিলারের তিনটি করে বিক্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে এবং বড় ধরনের জামানত প্রদান করতে হবে। তবে তিনটি বিক্রয়কেন্দ্রের জন্য খরচ বাড়লেও নীতিমালায় কমিশন যুগোপযোগী করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এই জায়গাগুলোয় পরিবর্তন চান ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন তারা। একইসঙ্গে কৃষিমন্ত্রীর কাছে একাধিক চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সরকার তাদের দাবি না মানলে আন্দোলনেরও হুমকি দিয়ে রেখেছেন তারা। এই পরিপ্রেক্ষিতে আজ কৃষি মন্ত্রণালয়ে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কৃষিমন্ত্রীর একটি সভা করার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘সাবেক কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এমন একটি নীতিমালা তৈরি করেছেন যা বাস্তবায়ন করতে গেলে সার সরবরাহে অরাজকতা তৈরি হবে। আর এর দায়টা যেন বর্তমান সরকারের ওপর পরে সে অবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য নীতিমালার সংশোধন করে যুগোপযোগী করতে হবে। এর আগপর্যন্ত নীতিমালাটি স্থগিত করার দাবি করা জানিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালের নির্ধারণ করা কমিশনে ডিলাররা ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অথচ কমিশন বাড়ানোর ঘোষণা না দিলেও নীতিমালায় একেকজন ডিলারকে তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। খরচ বাড়বে। আবার খুচরা বিক্রেতা, যারা দীর্ঘদিন ধরে সার বিক্রি করছেন তারা আর এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন না। এটা একটা সংকট। এগুলো দূর করতে হবে। তা না হলে আমরা আন্দোলনে যাব।
জানা গেছে, সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিএফএ জানিয়েছে, সরকার দাবি না মানলে সব সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতারা সার উত্তোলন, পরিবহন, বিতরণ ও ক্রয়-বিক্রয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে যাবে। যা কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্দোলনে যাওয়া-না যাওয়ার বিষয়টি আজ কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার ওপর নির্ভর করবে বলেও জানান ওয়ালিউর রহমান।